নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে বিসিবি। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
বাংলাদেশের এই অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও সুপার–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে যৌক্তিক মনে করছে পিসিবি। এ কারণেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে পাকিস্তান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসি যদি সন্তোষজনক কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে না খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে টিম ম্যানেজমেন্টকে নির্দেশ দিয়েছে পিসিবি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মতে, আয়োজক দেশ হওয়ার অজুহাতে কোনো দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি বা হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকায় আসার কথা ছিল আইসিসির দুই কর্মকর্তার। তবে শেষ পর্যন্ত একজন প্রতিনিধি এসে বৈঠক করেছেন। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ একাই ঢাকায় সফর করছেন। বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে তার সঙ্গে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনাও এর আসার কথা থাকলেও, তিনি সময়মতো ভিসা না পাওয়ায় আসতে পারেননি। এই অনুপস্থিতিকে অনেকেই দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। ভিসা না পাওয়ায় তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন।
তবে আইসিসির সঙ্গে বৈঠক শেষেও ভারতে না সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বিসিবি। বৈঠকে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, ‘অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি সহজতর করার উপায় হিসেবে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’
এ দিকে আয়ারল্যান্ডের একজন কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে বলেছেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পেয়েছি যে মূল সূচি থেকে আমাদের কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা নিশ্চিতভাবেই শ্রীলঙ্কায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলছি।’
এর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নির্দেশে বিসিবি আইসিসিকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ দল ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যেতে অনিচ্ছুক। এরপরও এই বিষয়ে একাধিকবার চিঠি আদান-প্রদান হয়েছে।
উল্লেখ্য,মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। দাবি তোলে ভেন্যু পরিবর্তনের।
এরই প্রেক্ষিতে বিসিবি ও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করতে আইসিসির দুজন প্রতিনিধি আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এসেছেন আইসিসির অ্যান্টি করাপশন এবং নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ।
সাননিউজ/আরআরপি