একটি ঐতিহাসিক আদেশ জারির মাধ্যমে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশটিতে বসবাসরত কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষাগত অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কুর্দি ভাষাকে আরবি ভাষার পাশাপাশি জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং কুর্দি পরিচয়কে সিরিয়ার জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটিতে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই বড় ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, কুর্দি ভাই-বোনদের ক্ষতি করার বিষয়ে যেসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে তাতে কেউ যেন বিশ্বাস না করেন। তিনি কুর্দিদের নতুন জাতি গড়ার কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের সমস্ত অধিকার রক্ষা করা হবে।
শুক্রবার জারি করা এই বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে হাসাকাহ প্রদেশে এক বিতর্কিত আদমশুমারির মাধ্যমে যেসব কুর্দি নাগরিকত্ব হারিয়েছিলেন, এখন থেকে তারা পুনরায় সিরিয়ার নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। নাগরিকত্বের পাশাপাশি কুর্দিদের সাংস্কৃতিক অধিকারের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন আদেশে কুর্দি ভাষা স্কুলে শিক্ষাদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কুর্দি নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ার সর্বত্র জাতিগত বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কেউ জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ালে তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি প্রশাসন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটিকে অধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। তবে তারা মনে করেন কেবল সাময়িক আদেশে কুর্দিদের অধিকার স্থায়ী হবে না, বরং সাংবিধানিকভাবে স্থায়ী অন্তর্ভুক্তিই তাদের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের বিতর্কিত আদমশুমারিতে কুর্দিদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা
সাননিউজ/আরআরপি