ঠিক এক বছর আগে, বিনোদন অঙ্গনকে চমকে দিয়ে বিয়ের খবর জানান জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান।
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিয়ে নিয়ে তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলেছিল তুমুল আলোচনা। টানা কয়েক দিন ট্রেন্ডিংয়ে ছিল তাহসানের বিয়ের খবর।
কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেই আলোচিত সম্পর্কের ইতি টানার সংবাদ এলো। গত শনিবার ১০ জানুয়ারি গণমাধ্যমে নিজেই বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাহসান। তিনি বলেন, “আমাদের বিচ্ছেদের ঘটনাটি সত্য।”
এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ভক্তদের মনে। প্রেমের সম্পর্ক এরপর বিয়ে—তারপর এত দ্রুত সম্পর্কের সমাপ্তি কেন?
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, তাদের প্রেমের সময়ের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকার সময় ছিল খুবই কম।
জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরেই, অস্ট্রেলিয়ায় সংগীতসফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকতে শুরু করেন।
এমনকি সেই সময়ই তাহসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন— গান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথা।
তাহসান পরে জানান, ওই সময়েরও আগেই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
অন্যদিকে, রোজা আহমেদ বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করায় অনেকের ধারণা ছিল— সম্পর্কটি এখনো টিকে আছে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার জায়গায় স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়। তাহসান চেয়েছিলেন আরও নিরিবিলি হোক ব্যক্তিগত জীবন। সংসারকেই দিতে চেয়েছিলেন বেশী অগ্রাধিকার।
কিন্তু বাস্তবতা রুপ নেয় ভিন্ন চিত্রে, বিয়ের পর রোজার সামাজিক পরিচিতি ও পরিসর বেড়ে যায়। নতুন এই বাস্তবতাকে তিনি উপভোগ করছিলেন। এই ভিন্ন মানসিক অবস্থান ও জীবনযাপনের ধরন ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে।
শেষ পর্যন্ত, কেই কাউকে দোষ না দিয়ে, পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকে সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেন দুজনই।
ঘনিষ্ঠ মহলের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছরের শেষ দিকেই বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এটি তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই সংযত তাহসান, আর বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি নীরবতাকেই বেছে নিয়েছেন।
সাননিউজ/আরআরপি