ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের বিভাগীয় সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিহত শিক্ষিকার পরিবার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরির সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান, বড় মেয়ে তাইয়েবা (১১), মেঝ মেয়ে তাবাসসুম (৯), ছেলে সাজিদ আবরার (৩) এবং ছয় মাস বয়সী কন্যা আমেনাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল “খুনি ফজলুর ফাঁসি চাই”, “রক্তখেকো শ্যামসুন্দরের ফাঁসি চাই”, “রক্তখেকো বিশ্বজিতের ফাঁসি চাই”, “রুনা ম্যামের খুনিদের ফাঁসি চাই”, “এক দফা এক দাবি, খুনিদের ফাঁসি চাই”, “কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করো”, “মায়ের কাছে যাবো… অবুঝ বুশরা”, “মায়ের কাছে যাবো… অবুঝ আয়শা”, “মা হারা আমরা চার ভাইবোন”, “আমাদের মা’কে ফিরিয়ে দাও” ইত্যাদি।
মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার মেঝ মেয়ে তাবাসসুম (৯) আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার ছোট ভাইটা সারাক্ষণ কাঁদে, মা মা বলে ডাকে। আমার মাকে ফিরিয়ে দিন। যারা আমার মাকে মেরেছে তাদের সবার ফাঁসি চাই।”
বড় মেয়ে তাইয়েবা (১১) বলেন, “আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই। আমরা তো এতিম হয়ে গেলাম। আমার মাকে যত কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, খুনিদেরও তেমন শাস্তি দেওয়া হোক। আমার মায়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল করা হোক। মা আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ছিলেন। এখন মা নেই, বাবাকে আর আমাকে কাজ করতে হবে। ছোট ভাই-বোনরা রাতে ঘুমাতে পারে না, সারাক্ষণ মাকে খোঁজে।” কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এসময় নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “শ্যাম, হাবিব ও অন্যরা যদি প্রমাণ করতে পারে যে তারা কোনো দিন আমার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ করেছে, তাহলে আমি পুরো মামলা তুলে নেব। প্রতিদিন ক্যাম্পাস থেকে ফোন করে আমার স্ত্রী বলত, বিভাগের কিছু লোক তার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করছে। পিয়ন থেকে শুরু করে শ্যাম ও বিশ্বজিতের মতো লোকজন অকথ্য ব্যবহার করত।”
তিনি আরও বলেন, “ফজলু যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত সেটি আমিই কিনে দিয়েছিলাম। আমার স্ত্রী বিভাগে যোগদানের পর প্রতি ঈদে তাকে টাকা দিতেন। তিনি বলতেন, ফজলু অনেক পরিশ্রম করে। যতটুকু পারি তাকে সাহায্য করি। ফজলু বেঁচে আছে, সে নিজেই এসব বলতে পারবে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিসকক্ষে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করে বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। এরপর বৃহস্পতিবার জানাযা শেষে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার নিহতের স্বামী ৪ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। এরপর শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মূল অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সান নিউজ/আরএ