ছবি: সংগৃহীত
খেলা

ভুল পজিশন, ভুল পরিকল্পনা, হাভিয়ের ফার্নান্দেজ কাবরেরার

স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হারার কারণ কী? বাংলাদেশের সবাই জানত সিঙ্গাপুর রক্ষণাত্মকভাবে ম্যাচ শুরু করবে। সবার জানা থাকলেও একজনের জানা ছিল না, যার জানাটা সবচেয়ে জরুরি ছিল। তার নাম হাভিয়ের ফার্নান্দেজ কাবরেরা।

২০,০০০ ঘরের দর্শক, মিডিয়া, আর প্রবাসী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি দল নিয়ে রক্ষনাত্মক শুরু করাটা সত্যিই অবাক করা সিদ্ধান্ত ছিল। এটি কাবরেরার দুর্বল দূরদর্শিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অক্ষমতার পরিচয় দেয়।

সিঙ্গাপুর কেবল রক্ষণাত্মক খেলেনি; তারা অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলেছে। তারা তাদের প্রচলিত ৪-২-৩-১ ফর্মেশন বজায় রেখেছিল, কিন্তু দ্রুতগতির উইঙ্গার ফারিস রামলি বা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কিওগা নাকামুরাকে শুরুর একাদশে রাখেননি।

হামি স্যাহিন, হারিস স্টুয়ার্ট ও জর্ডান এমাভিওয়ে। এই তিনজনের মিডফিল্ড ধীর গতির ছিল বেঞ্চে থাকা অন্যদের তুলনায়। এমনকি ইকসান ফান্ডিও ম্যাচের শুরুতে মাঝমাঠের কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, বাংলাদেশের রক্ষণভাগে কোনো চাপ তৈরি না করেই।

বাংলাদেশও এমন একটি দল বেছে নিয়েছিল যেটা কার্যকারিতা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে মনে হচ্ছিল। গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচে ডান দিকের মিডফিল্ডে কাজেম শাহকে শুরুর একাদশে রাখা হয়েছিল, যদিও তার আগের দুটি ম্যাচে তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিলো না। ভুটানের বিপক্ষে মাত্র পাঁচ দিন আগে ৪৫ মিনিট, এবং ২০২৪ সালে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৬৪ মিনিট, যে ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল।

চার দিন পর, একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কাজেমকে বাদ দেওয়া হয়। সেবার জয়লাভ করে বাংলাদেশ। যদিও কাজেম খারাপ খেলোয়াড় নন; বরং তিনি একজন প্রতিভাবান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। তবে তাকে ভুল পজিশনে খেলানো হয়েছে। তিনি মূলত সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে উপযুক্ত, যে পজিশনে সামিত সোম খেলেছেন।

ভুটান ম্যাচের আগে, কাবরেরা নিয়মিতভাবে শেখ মোরসালিনকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়েছেন, আর রাকিব হোসেনকে তার স্বাভাবিক পজিশন রাইট মিডফিল্ডে খেলিয়েছেন। যেখানে তিনি সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিনি অদ্ভুতভাবে রাকিবকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়েছেন। অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে রাকিব ছিলেন দুই ডিফেন্ডারের কড়া পাহারায়, ফলে তার সবচেয়ে বড় শক্তি গতি ও ড্রিবলিং ব্যবহার করার কোনো সুযোগই ছিল না।

অবস্থা আরও খারাপ হয় যখন গোল করার পর রাকিবকে রাইট ব্যাক হিসেবে খেলানো হয়। এটি ছিল কাবরেরার আরও এক বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি কোচ দাবি করেন, রাকিবই তার একমাত্র প্রকৃত স্ট্রাইকার অপশন। অথচ, ফাহমেদুল, যিনি একজন দুর্দান্ত উইঙ্গার হলেও খুব বেশি অভিজ্ঞ নন, তাকে এমন একটা বড় ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখা হয়েছিল, যার জন্য তিনি তখনো প্রস্তুত ছিলেন না।

অনেকেই ধারণা করেছিল এই ম্যাচে ডিফেন্ডারদের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এবং সেটিই হয়েছে। সিঙ্গাপুরের উভয় গোলই এসেছে বাংলাদেশি ডিফেন্ডারদের ভুল থেকে। প্রথম গোলে শাকিল ডান দিকে সং-কে মার্ক করতে ব্যর্থ হন; দ্বিতীয় গোলে সাদ প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেন। ইসা ফয়সাল, যিনি বছরের পর বছর ধরে নির্ভরযোগ্য এবং ধারাবাহিক পারফর্মার, তাকে ২৩ জনের স্কোয়াডেই রাখা হয়নি। তার বদলে জাহিদ শান্তকে রাখা হয়, যার কোনো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাই নেই।

২০২১ সালে, বাংলাদেশ দলের স্কোয়াডে ভালো কোনো প্রতিভাবান ফুটবলার ছিলেন না, তখন হাভিয়ের কাবরেরার সীমিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে, বাংলাদেশ জাতীয় দলে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার রয়েছে। যারা কাবরেরার সিভি থেকেও অনেক এগিয়ে।

এছাড়া কাবরেরার আগের ভূমিকা ছিল ভারতের তৃতীয় স্তরের দল স্পোর্টিং ক্লাব দে গোয়ার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং সহকারী কোচ হিসেবে । চার মাসের জন্য এফসি বার্সেলোনা একাডেমির (নর্থ ক্যারোলিনা), এবং স্পেনের দিপোর্তিভো আলাভেস একাডেমির কোচ হিসেবে দুই বছর। এই অভিজ্ঞতাগুলো আন্তর্জাতিক শীর্ষ পর্যায়ের জাতীয় দল পরিচালনার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না।

বাংলাদেশি ফুটবলারদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে দেশের ফুটবল কাঠামোর কারণে, তবে তাদের ভুল পজিশনে খেলালে তাদের কার্যকারিতা আরও কমে যায়। দুর্বল দল নির্বাচন কোচের দায়, খেলোয়াড়দের নয়। স্পেন অনেক বিশ্বমানের কোচ তৈরি করে, তবে তাই বলে প্রতিটি স্প্যানিশ কোচ সাফল্য আনতে পারেন না।

জাতীয়তা নয়, একজন কোচের প্রকৃত সামর্থ্য মূল্যায়ন করা জরুরি। যখন একজন বিদেশি কোচ, যার শীর্ষ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা নেই, তাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন সেটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়ে দাঁড়ায়। যা তিনি যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে চান। কিন্তু আমাদের দরকার সঠিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত। কারণ এখানে শুধু কোচের নয়, দেশের সম্মানের প্রশ্ন জড়িত।

সাননিউজ/ইউকে

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম এলাকা মানিকপুরে সৌদি আরবপ্রবাসীর বাড়িতে রাতের আঁধার...

মুন্সীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা-ইয়াবাসহ দম্পতি গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও ৫৫ পিস ইয়াবা ট...

ভালুকায় শ্রমিক দিপু হত্যার মূল হোতা ইয়াছিন আরাফাত গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নীটওয়্যার বিডি লিমিটেডের শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস...

জকসু নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা, শিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে জয়...

এবার কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না: প্রধান নির্বাচন কমিশনার

এবার কোনে পাতানো নির্বাচন হবে না মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)...

উলিপুর প্রেসক্লাবের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

কুড়িগ্রামের উলিপুর প্রেসক্লাবের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। দিবস...

মাটিরাঙায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফির...

নোয়াখালীতে দুর্নীতির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানকে অপসারণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবু বা...

বন্ধ রয়েছে মাদারীপুরের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ

আজ বৃহস্পতিবার মাদারীপুর শহরের অধিকাংশ এলাকায় এলপি গ্যাসের সংকট দেখা গেছে। এত...

মুন্সীগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম এলাকা মানিকপুরে সৌদি আরবপ্রবাসীর বাড়িতে রাতের আঁধার...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা