ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘এমক্যাশ’ রিব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে নতুন কলেবরে শুরু হয়েছে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দেশের প্রথম ইসলামিক মোবাইল ব্যাংকিং ‘এমক্যাশ’-এর রিব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. জুবায়দুর রহমান-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরিফ হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ ওমর ফারুক খাঁন। ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ আবদুস সালাম, এফসিএ, এফসিএস, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. মাসুদ রহমান এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মোঃ আবদুল জলিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীসহ ব্যাংকের সকল জোনপ্রধান ও শাখা ব্যবস্থাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংকের একটি শক্তিশালী গ্রাহকভিত্তি রয়েছে। ৩ কোটির অধিক গ্রাহক এ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইসলামী ব্যাংকের ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা এবং প্রায় ২৮০০টি এজেন্ট আউটলেটের বৃহৎ নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে এমক্যাশকে এগিয়ে নিতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহেও এমক্যাশকে কাজে লাগাতে হবে। ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে এমক্যাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, এমক্যাশকে শক্তিশালী করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। গ্রাহকদের প্রণোদনা ও ক্যাশব্যাক দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এমক্যাশকে রিটেইল মার্কেট ও এসএমই সেক্টরে ফোকাস করে তাদেরকে কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউটের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের জন্য সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। ডিজিটাল লেনদেন হলে দেশে দুর্নীতি কমে আসবে, ২ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা আসবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মার্কেটটা এককেন্দ্রিক না থেকে আরও প্রসারিত হোক, যা দেশের অর্থনীতি ও গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক।’ তিনি এমক্যাশের পুনর্যাত্রার সাফল্য কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. জুবায়দুর রহমান বলেন, ৩ কোটি গ্রাহক নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে। তিনি এমক্যাশ লেনদেনে সবাইকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি এমক্যাশের রিব্র্যান্ডিংয়ে গভর্নর মহোদয়ের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।
এমক্যাশের সুবিধাসমূহ:
প্রযুক্তি এবং আধুনিক ব্যাংকিংয়ের সমন্বয়ে ‘এমক্যাশ’ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে নিরাপদ, দ্রুত এবং সহজ করেছে। এমক্যাশ থেকে এমক্যাশে সেন্ড মানির ক্ষেত্রে কোনো ফি নেই এবং ক্যাশ আউট চার্জ প্রতি হাজারে মাত্র ১৩.৯০ টাকা। ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো শাখা, উপশাখা ও এটিএম থেকে উত্তোলনের ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা।
বিদেশ থেকে রেমিট্যান্সের টাকা সরাসরি এমক্যাশে পাঠানো যায়, যা সঙ্গে সঙ্গে জমা হয়ে যায়। রেমিট্যান্সের ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ৭ টাকা। যেকোনো ভিসা/মাস্টারকার্ড থেকে হাজারে মাত্র ৫ টাকা খরচে অ্যাড মানি করা যায়।
এমক্যাশের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিলসহ বিভিন্ন বিল এবং মেট্রোরেলের র্যাপিড পাস রিফিল করা যায়। এছাড়া এমক্যাশের মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা যেমন বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ও বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা গ্রহণ করা যায়।
অনেক প্রতিষ্ঠান এখন তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এমক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছে। গ্রাহকরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট, ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ব্যাংকের নিজস্ব এটিএম ও সিআরএম বুথ থেকে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন।
সাননিউজ/আরআরপি