ফলনের পরও হাসি নেই কৃষকের মুখে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা। মাঠে উৎপাদিত তরমুজ যেখানে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষক, সেখানে একই তরমুজ শহরের বাজারে বিভিন্ন আরৎ এ বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ দামে। প্রশ্ন উঠেছে—এই মূল্য বৈষম্যের দায় কার?
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে প্রতি একর জমিতে ব্যয় হচ্ছে বিপুল অর্থ। অথচ বাজারে বিভিন্ন আরৎ পার্টিরা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে তরমুজের দাম নির্ধারিত হওয়ায় কৃষক পর্যায়ে ন্যায্য মূল্য পৌঁছাচ্ছে না। অনেক চাষি উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।
তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন আরৎ এবং ব্যবসায়ী মাঠ পর্যায়ের কৃষকের কাছ থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন মাত্র ৪০ টাকা প্রতি কেজিতে, অথচ শহরের বাজারে এবং আরৎ এ তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজিতে। এই প্রক্রিয়ায় কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে।
চাষিরা অভিযোগ করে বলেন, “সরকার কৃষকের কথা বললেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই।” ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ, দালালমুক্ত বাজার ব্যবস্থা এবং কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না এলে শুধু তরমুজ নয়, অন্যান্য মৌসুমি ফল চাষেও কৃষকরা আগ্রহ হারাবে—যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে কৃষি অর্থনীতিতে।
সান নিউজ/আরএ