দেশজুড়ে তীব্র গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকেই দিনে একাধিকবার গোসল করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গোসল সবসময় উপকারী নয়; বরং এটি ত্বকের জন্য ক্ষতির কারণও হতে পারে।
গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা প্রায় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেলে শরীর ঘামতে শুরু করে এবং দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়ে। ফলে অনেকেই বারবার গোসলকে সমাধান হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও তেল ভারসাম্য বজায় রাখতে গোসলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ত্বক একটি সংবেদনশীল জৈবিক ব্যবস্থা, যা সঠিক পিএইচ ভারসাম্যের ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত গোসল এই ভারসাম্য নষ্ট করে ত্বককে শুষ্ক, খসখসে এবং সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
‘এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত গবেষণাতেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গরমের দিনে অতিরিক্ত গোসল ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষামূলক তেল ধ্বংস করে দিতে পারে।
গোসলের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই অস্বীকার করা যায় না। গরমে ঘাম, ব্যাকটেরিয়া ও ধুলোবালি ত্বকে জমে ইনফেকশন, র্যাশ ও দুর্গন্ধ তৈরি করতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত গোসল জরুরি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দীপালি ভরদ্বাজ বলেন, গরম আবহাওয়ায় ব্যক্তিভেদে গোসলের রুটিন আলাদা হতে পারে। তবে সাধারণভাবে দিনে ১ থেকে ২ বার গোসলই যথেষ্ট।
তার মতে, যারা ঘরে অবস্থান করেন এবং কম শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য দিনে একবার গোসল যথেষ্ট। অন্যদিকে যারা বাইরে কাজ করেন, রোদে চলাফেরা করেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের দিনে দু’বার গোসল করা উচিত।
তবে দিনে দুইবারের বেশি গোসল করলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গরমে শুধু গোসলের সংখ্যাই নয়, বরং সঠিক সাবান ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ত্বকের যত্ন নেওয়াও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।