সাভারের উলাইল এলাকায় অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে মৃত্যুর গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু এবং আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ। এর আগে সোমবার রাতে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০)। সে চাঁদপুর জেলার সদর থানার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে। সোমবার দুপুরে সাভার পৌরসভার উলাইল এলাকার কোটঘর মহল্লার নুরুজ্জামানের অটোরিকশা গ্যারেজে তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, ‘আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন। গত রোববার ফজরের নামাজের পর চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাইনি। গত রাতে সাভার থানা থেকে ফোনে জানানো হয়, তার মরদেহ হাসপাতালে পাওয়া গেছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার বলেন, সোমবার দুপুরে দুইজন লোক অটোরিকশায় করে এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং পরে তারা মৃতদেহ ফেলে পালিয়ে যায়। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরবর্তীতে পুলিশকে খবর দিয়ে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহতের আঙ্গুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। আমরা সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকালে সাভারের উলাইল আল ইসলাম গার্মেন্টসের পেছনের এলাকা থেকে অটোরিকশা চুরির অপবাদে আবুল খায়েরকে আটক করে কয়েক দফায় পেটানো হয়। পরে সেখান থেকে অটোরিকশার মালিক নুরুজ্জামানের অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে সেখানে আবারও কয়েক দফা মারধর করা হয়। পরে গ্যারেজ মালিক নুরুামান আরেকজন অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় আবুল খায়েরের মরদেহটি সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে পালিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একজন অটোরিকশাচালক তার ছোট ছেলেকে অটোরিকশা পাহারায় রেখে বাসায় খাবার খেতে যান। তখন ওই ব্যক্তি বাচ্চাটিকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি। ভাত নিয়ে আসো। একথায় বাচ্চাটি বাসায় গিয়ে তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার বাবা রিকশার কাছে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি রিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে রয়েছেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে অটোরিকশা চোর সন্দেহ করায় মুহূর্তেই লোকজন জড়ো হতে থাকে এবং গণপিটুনি শুরু হয়।
গণপিটুনির ঘটনায় আটক নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার অটোরিকশাটি চালাচ্ছিলেন শুভ। গতকাল সকালে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে শুভ ও স্থানীয়রা ওই যুবককে আটক করে প্রথমে মারধর করে আমার গ্যারেজে নিয়ে আসে। আমি তাকে গ্যারেজে বসিয়ে রাখলে অন্যান্য অটোরিকশাচালকরা আবারও তাকে মারধর করেন কিন্তু আমি মারধর করিনি। পরবর্তীতে আমি একজন অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং তাকে মৃত ঘোষনা করায় ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসি।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভকে এবং গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন।
সান নিউজ/ জামান