ঘরে ঢুকতেই দেয়াল বেয়ে টিকটিকি ছুটে বেড়ানোর দৃশ্য অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। যদিও সাধারণ ঘরের টিকটিকি বেশিরভাগ সময় মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং মশা-মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে থাকে, তবু ঘরের ভেতরে তাদের উপস্থিতি অনেকেই পছন্দ করেন না।
টিকটিকি দূর করতে সব সময় রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। ঘর পরিষ্কার রাখা এবং টিকটিকির সম্ভাব্য প্রবেশপথ বন্ধ করার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের আনাগোনা কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।
পুদিনা ও ইউক্যালিপটাস
পুদিনা বা ইউক্যালিপটাসের তীব্র গন্ধকে অনেকে টিকটিকি প্রতিরোধের ঘরোয়া উপায় হিসেবে ব্যবহার করেন। জানালার পাশে পুদিনা গাছ রাখা কিংবা পানিতে অল্প পরিমাণ সুগন্ধি তেল মিশিয়ে প্রবেশপথের আশপাশে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি, বিশেষ করে ঘরে শিশু বা পোষা প্রাণী থাকলে।
ডিমের খোসা
দরজা-জানালার আশপাশে পরিষ্কার ও শুকনো ডিমের খোসা রেখে দেওয়ার প্রচলিত একটি ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে। তবে ডিমের খোসার গন্ধে টিকটিকি নিশ্চিতভাবে দূরে থাকে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই এটিকে নিশ্চিত প্রতিরোধক না ধরে একটি সহজ ঘরোয়া কৌশল হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো।
মরিচের গুঁড়া
মরিচের ঝাঁঝালো উপাদান বিভিন্ন প্রাণীর জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। তাই অনেকে পানিতে সামান্য মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে টিকটিকির চলাচলের জায়গায় স্প্রে করার পরামর্শ দেন। তবে মরিচের গুঁড়া সরাসরি ছড়িয়ে না দেওয়াই ভালো, কারণ এতে মানুষ, শিশু ও পোষা প্রাণীর চোখ বা শ্বাসনালিতে জ্বালা হতে পারে।
রসুন ও পেঁয়াজ
রসুন ও পেঁয়াজের তীব্র গন্ধ অনেক প্রাণীর কাছে বিরক্তিকর হতে পারে। কয়েক কোয়া রসুন বা কাটা পেঁয়াজ পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি ছেঁকে দরজা-জানালার আশপাশে হালকা করে ব্যবহার করা যায়। তবে এটি টিকটিকি দূর করার নিশ্চিত বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত পদ্ধতি নয়। ব্যবহার করলে আগে ঘরের ছোট একটি অংশে প্রয়োগ করে দেখা ভালো।
সবচেয়ে কার্যকর উপায় ঘর পরিষ্কার রাখা
টিকটিকি সাধারণত খাবারের সন্ধানে ঘরের ভেতরে আসে। তাই তাদের আনাগোনা কমাতে ঘরে মশা, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপস্থিতি কমানো গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের উচ্ছিষ্ট খোলা না রাখা, নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার করা এবং রাতে অপ্রয়োজনে দরজা-জানালা খোলা না রাখার অভ্যাস কাজে দিতে পারে।
এ ছাড়া দরজা-জানালা ও দেয়ালের ফাঁকফোকর বন্ধ করে দিলে টিকটিকির প্রবেশের সুযোগ কমে যায়। রাসায়নিক কীটনাশক বা অজানা উপাদানের স্প্রে ব্যবহারের পরিবর্তে প্রথমে এসব নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়াই ভালো।
সান নিউজ/ জামান