খাবার খাওয়ার পর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে খাওয়ার পর হঠাৎ বুকে ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর এমন উপসর্গ দেখা দিলে অনেকে সেটিকে গ্যাস, বদহজম বা অ্যাসিডিটির সমস্যা মনে করে অপেক্ষা করেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এর কারণ হজমের সমস্যা নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাসিডিটির মতো অনুভূত হওয়া বুকের অস্বস্তিও কখনো কখনো হৃদ্রোগের সতর্ক সংকেত হতে পারে। তাই বুকের ব্যথার কারণ নিশ্চিত না হয়ে নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়া বা ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
খাবারের পর বুকে ব্যথার কারণ কী?
খাবারের পর বুকে অস্বস্তির অন্যতম কারণ হতে পারে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজম। পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে এলে বুকের মাঝখানে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে একই ধরনের অনুভূতি কিছু হৃদ্রোগের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে।
এ কারণেই বুকের ব্যথাকে শুধু ‘গ্যাসের ব্যথা’ ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ব্যথা নতুন ধরনের হলে, তীব্র হলে বা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ক্ষেত্রে সাধারণত বুক জ্বালা করার পাশাপাশি কয়েকটি হজমজনিত উপসর্গ দেখা যায়। যেমন—
- বুকের ভেতর জ্বালাপোড়া হওয়া
- মুখে টক বা তেতো স্বাদ অনুভূত হওয়া
- গলা পর্যন্ত অ্যাসিড উঠে আসার অনুভূতি
- ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা
- খাবারের পর অস্বস্তি বাড়া
এসব লক্ষণ থাকলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে বুকের ব্যথা তীব্র হলে বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ যুক্ত হলে শুধু অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়।
হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী লাগা, টান ধরা বা অস্বস্তি হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ব্যথা তীব্র হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক হালকা অস্বস্তি দিয়েও শুরু হতে পারে।
বুকের অস্বস্তির সঙ্গে নিচের উপসর্গগুলো থাকলে বিশেষভাবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন—
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
- বমি বমি ভাব বা বমি
- মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
- হাত বা কাঁধে ব্যথা বা অস্বস্তি
- পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া
তাই ভারী খাবারের পর বুকে ব্যথা হলে সেটিকে স্বাভাবিক বদহজম ভেবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করাই ভালো। বিশেষ করে বুকের অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, মাথা ঘোরা বা শরীরের অন্য অংশে ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
অ্যাসিডিটি নাকি হার্টের সমস্যা—কেন বিভ্রান্তি হয়?
অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও হৃদ্রোগ—দুই ক্ষেত্রেই বুকের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু ব্যথার অবস্থান বা অনুভূতি দেখে নিশ্চিতভাবে কারণ নির্ধারণ করা সবসময় সম্ভব নয়। বয়স, পূর্বের হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাসসহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ও চিকিৎসক বিবেচনা করেন।
তাই বুকের ব্যথা নতুন, অস্বাভাবিক বা বারবার হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। গুরুতর উপসর্গ থাকলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।