জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) নতুন মৌসুমের শুরুতেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের দেখা মিলেছে। প্রথম রাউন্ডের খেলায় বরিশাল বিভাগকে ইনিংস ও বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে খুলনা বিভাগ। অন্যদিকে, ঢাকা ও রংপুরের মধ্যকার অন্য ম্যাচটি এখন চরম রোমাঞ্চকর এক পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।
খুলনার কাছে পাত্তাই পেল না বরিশাল
খুলনা বিভাগের বোলিং তোপে টিকতেই পারেনি বরিশাল বিভাগ। প্রথম ইনিংসে খুলনার পাহাড়সম ৪২৬ রানের জবাবে মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে ফলোঅনে পড়ে তারা। এরপর তৃতীয় দিনে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত ১৯৭ রানেই থেমে যায় বরিশাল। দলের পক্ষে হাফিজুর রহমান ৯১ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও হার এড়াতে পারেননি। খুলনার বোলারদের মধ্যে সফর আলী একাই শিকার করেন ৪ উইকেট। এছাড়া শেখ পারভেজ জীবন ৩টি এবং সামিউন বশির রাতুল ২টি উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
তাইবুর-সুমানের ব্যাটে ঢাকার দুর্দান্ত লড়াই
এদিকে ঢাকা ও রংপুরের মধ্যকার ম্যাচটিতে চলছে সমানে সমান লড়াই। প্রথম ইনিংসে রংপুরের ৩৪০ রানের জবাবে খাদের কিনারায় পড়ে গিয়েছিল ঢাকা। দলীয় ১২০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন তাইবুর রহমান ও সুমন খান। সপ্তম উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে ১২৬ রান যোগ করেন।
অসাধারণ ব্যাটিং করে ২০৮ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণির সেঞ্চুরি তুলে নেন তাইবুর রহমান (১০৮ রান)। অন্যদিকে মাত্র ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও দারুণ দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন সুমন খান। এই দুই ব্যাটারির লড়াকু ইনিংসে ভর করে ঢাকা তাদের প্রথম ইনিংসে ২৬৪ রান পর্যন্ত পৌঁছায়। রংপুরের পক্ষে স্বাধীন ইসলাম, আবু হাশিম, ইকবাল হোসেন ও মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন।
বিপাকে রংপুর
প্রথম ইনিংসে ৭৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেলেও নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে রংপুর। ঢাকার পেসার ও স্পিনারদের তোপে মাত্র ৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার অনিক সরকার ও মিম মোসাদ্দেক রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে রংপুরের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১২ রান, আর তাদের সামগ্রিক লিড দাঁড়িয়েছে ৬২ রানের। চতুর্থ ও শেষ দিনে ম্যাচটি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সান নিউজ / রাজীব