প্রিয় পারফিউমটি কিছুদিন ব্যবহারের পর আগের মতো ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না—এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। এর জন্য সবসময় সুগন্ধির মান বা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। ভুলভাবে সংরক্ষণ করলেও সময়ের সঙ্গে পারফিউমের ঘ্রাণ ও কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
তাপ, আলো, আর্দ্রতা এবং বাতাসের সংস্পর্শে পারফিউমের সুগন্ধি উপাদানের রাসায়নিক গঠনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন এর ঘ্রাণ ভালো রাখা সম্ভব।
কোথায় রাখবেন পারফিউম?
পারফিউম রাখার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক স্থান। শোবার ঘরের ড্রয়ার বা আলমারির ভেতর এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত। পারফিউম কেনার সময় যে বাক্সটি পাওয়া যায়, সেটিও ফেলে না দিয়ে ব্যবহার করা ভালো। এতে বোতলটি আলো থেকে সুরক্ষিত থাকে।
অনেকে পারফিউম দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য ফ্রিজে রাখেন। তবে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত এর প্রয়োজন নেই। বরং বাথরুমে পারফিউম রাখা এড়িয়ে চলাই ভালো। গোসলের সময় তৈরি হওয়া তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বাথরুমের তাপমাত্রা বারবার পরিবর্তিত হয়, যা পারফিউমের উপাদানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া জানালার পাশে বা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন জায়গায়ও পারফিউম রাখা উচিত নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সুগন্ধি তেলের রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। এতে সময়ের সঙ্গে পারফিউমের স্বাভাবিক ঘ্রাণ নষ্ট হতে পারে।
ব্যবহারের পর ঢাকনা বন্ধ রাখুন
পারফিউম ব্যবহারের পর বোতলের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে রাখা জরুরি। বোতল খোলা থাকলে বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে দীর্ঘদিনে সুগন্ধির উপাদানে পরিবর্তন ঘটতে পারে।
এ কারণে স্প্রে বোতলের পারফিউম ব্যবহার করা তুলনামূলক সুবিধাজনক। ব্যবহারের পর দ্রুত ঢাকনা লাগিয়ে দিলে বাতাসের সংস্পর্শও কম হয়।
শরীরে ঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী করার উপায়
পারফিউম শুধু ভালোভাবে সংরক্ষণ করলেই হবে না, শরীরে এর সুবাস দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখার জন্যও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার।
শুষ্ক ত্বকের তুলনায় আর্দ্র ত্বকে পারফিউমের ঘ্রাণ সাধারণত বেশি সময় স্থায়ী হয়। তাই পারফিউম ব্যবহারের আগে সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার বা বডি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে।
পারফিউম স্প্রে করার পর কবজি দুটো পরস্পরের সঙ্গে ঘষা উচিত নয়। এতে ঘর্ষণ ও তাপের কারণে সুগন্ধির ওপরের স্তরের ঘ্রাণ দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। স্প্রে করার পর সেটিকে স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে দেওয়া ভালো।
ঘাড়, কবজি, কানের পেছনে এবং কনুইয়ের ভাঁজের মতো পালস পয়েন্টে পারফিউম ব্যবহার করলে শরীরের উষ্ণতার কারণে সুবাস ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
পারফিউম নষ্ট হওয়ার লক্ষণ
পারফিউম নষ্ট হয়ে গেলে সাধারণত কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে। যেমন—রং অস্বাভাবিকভাবে গাঢ় বা বাদামি হয়ে যাওয়া, তরল ঘন হয়ে যাওয়া কিংবা ভিনেগারের মতো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে ধরে নেওয়া যায়, পারফিউমের গুণগত মানে পরিবর্তন এসেছে এবং এর মূল সুবাস আর আগের মতো নেই।
তাই প্রিয় পারফিউম দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করা, সরাসরি রোদ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা এড়িয়ে চলা এবং প্রতিবার ব্যবহারের পর বোতলের ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সান নিউজ/ রাব্বি