শ্রেণিকক্ষ সংকট, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফুঁসে উঠেছে ফরাসি শিক্ষার্থীরা। এর ধারাবাহিকতায় আজ দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় ও তীব্র বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কড়াকড়ি ও নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে শিক্ষার্থীরা একযোগে শত শত স্কুল ব্লকেড বা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে শহুরে সহিংসতা : বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্সেই, নাঁতেস এবং লিওঁ শহরের রাজপথে সকালের দিকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের হাতে নানা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যার একটিতে লেখা ছিল—‘আমাদের রাজনীতিবিদরা কোথায়? তারা কি জানে আমাদের অস্তিত্ব আছে?’ আন্দোলনের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া হাতে তা দমনের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও ব্যাপক গণগ্রেপ্তার চালায়। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই ছাত্র আন্দোলন এখন অনেক স্থানে শহুরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
বিস্ফোরণে শিক্ষার্থীর অঙ্গহানি ও সংঘর্ষ : পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তার প্রমাণ মেলে উত্তর ফ্রান্সের একটি ঘটনায়। সোমবার সেখানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ চলাকালে ২৫০ থেকে ৩০০ জন শিক্ষার্থী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে শক্ত বস্তু ছুড়তে থাকে। ঠিক তখনই ঘটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ‘লা ভয়েক্স নর্ড’ জানিয়েছে, ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী কুড়িয়ে পাওয়া পুলিশের একটি গ্রেনেড নিজের হাতে তুললে সেটি আকস্মিকভাবে বিস্ফোরিত হয়। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে ওই কিশোরের একটি হাত কবজি থেকে উড়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট দাবি ও সরকারের অবস্থান : হাইস্কুল স্টুডেন্টস ইউনিয়নের দেওয়া তথ্যমতে, সরকারি এই নীতির প্রতিবাদে সারা দেশে ১৮০০-এর বেশি স্কুল ব্লকেড করা হয়েছে। অনেক স্কুল বাধ্য হয়ে অনলাইনে তাদের শিক্ষাকার্যক্রম চালু রেখেছে। শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে—অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে নিয়মিত শিক্ষক নিশ্চিত করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ক্লাসের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা, দুপুরের খাবারের জন্য পর্যাপ্ত বিরতি দেওয়া এবং জরাজীর্ণ ও পুরাতন স্কুল ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করা। পাশাপাশি শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমানোর যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে অবিলম্বে সরে আসার দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই তীব্র চাপের মুখে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু ইতোমধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
সান নিউজ / রাজীব