বাড়ন্ত বয়সে সন্তান ও মা-বাবার সম্পর্ক অনেক সময় জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফোন ব্যবহার, বন্ধুবান্ধব, পড়াশোনা, পোশাক কিংবা ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বা তর্ক হওয়া স্বাভাবিক। কারণ এই সময়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাড়তে থাকে। অন্যদিকে, মা-বাবারাও সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন।
তবে মতের অমিল মানেই সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে—এমন নয়। কিছু বিষয় মেনে চললে মা-বাবার সঙ্গে সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।
১. নিয়মিত কথা বলুন
সব কথাই যে গুরুত্বপূর্ণ বা বড় কোনো বিষয় হতে হবে, এমন নয়। প্রতিদিনের ছোটখাটো বিষয় নিয়েও মা-বাবার সঙ্গে কথা বলুন। স্কুলের মজার ঘটনা, পছন্দের কোনো অনুষ্ঠান বা দিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন।
আপনার দৈনন্দিন বিষয়গুলো সম্পর্কে মা-বাবা অভ্যস্ত হলে ভবিষ্যতে কোনো কঠিন পরিস্থিতি বা সমস্যায় তাদের কাছে যাওয়া সহজ হবে।
২. নিজের ভুল স্বীকার করতে শিখুন
জীবনের সব ছোট-বড় বিষয় মা-বাবাকে জানানো জরুরি নয়। তবে কোনো ভুল লুকিয়ে রাখলে অনেক সময় ছোট সমস্যা বড় আকার নিতে পারে।
ভুল স্বীকার করা কঠিন হলেও সততা বিশ্বাস তৈরি করে। মা-বাবা যখন দেখেন সন্তান নিজের কাজের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, তখন সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস, সম্মান ও খোলামেলা যোগাযোগ। মতের পার্থক্য থাকলেও একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করলে সম্পর্ক আরও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে।
৩. মা-বাবার দৃষ্টিভঙ্গিও বোঝার চেষ্টা করুন
অনেক সময় মনে হতে পারে, মা-বাবা আপনাকে বুঝতে পারছেন না। কিন্তু কোনো বিষয়ে তর্কে যাওয়ার আগে কেন তারা এমন ভাবছেন, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।
তাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আপনার মতের মিল নাও হতে পারে, তবে তাদের উদ্বেগের কারণ বুঝতে পারলে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়।
৪. গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার জন্য সঠিক সময় বেছে নিন
রাগের মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করলে অনেক সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই শান্ত সময় বেছে নিয়ে কথা বলুন।
বন্ধুত্ব, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার, ঘুমের সময় বা কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হলে এমন একটি সময় বেছে নিন, যখন সবাই স্বাভাবিক মেজাজে থাকে।
৫. নিজের স্পেসের প্রয়োজন হলে জানান
নিজস্ব সময় বা ব্যক্তিগত পরিসর চাওয়া বড় হওয়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে হঠাৎ করে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিলে মা-বাবা উদ্বিগ্ন হতে পারেন।
তাই দূরত্ব তৈরি না করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, আপনার কিছুটা একা সময় প্রয়োজন এবং পরে আবার কথা বলবেন। এতে তারা বুঝতে পারবেন, আপনি তাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন না, শুধু কিছুটা ব্যক্তিগত সময় চাইছেন।
সান নিউজ/ হুমায়রা