সম্পর্কে ঝগড়া হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে রাগের মাথায় বলা কিছু কথা অনেক সময় সঙ্গীর মনে গভীর আঘাত তৈরি করে। ঝগড়ার পর ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্য দীর্ঘায়িত হলে সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি।
ক্ষমা চান
শুধু ‘তুমি কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখিত’ বলার চেয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া বেশি কার্যকর। যেমন, ‘আমি রেগে গিয়েছিলাম, কিন্তু তোমার সঙ্গে এভাবে কথা বলা আমার উচিত হয়নি’—এভাবে নিজের আচরণের দায় নেওয়া যায়। সঙ্গীর সব কথার সঙ্গে একমত না হলেও নিজের ভুলের জায়গাটুকুর জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান।
কিছুটা সময় দিন
ঝগড়া শেষ হওয়ার পরপরই সবকিছু ঠিক করার চেষ্টা না করাই ভালো। বারবার ফোন বা মেসেজ না করে দুজনকেই কিছুটা সময় দিন। এতে রাগ কমবে এবং প্রত্যেকে নিজের আচরণ ও ভুল নিয়ে ভাবার সুযোগ পাবে। পরে শান্তভাবে কথা বলা সহজ হবে।
ঝগড়ার কারণ খুঁজে বের করুন
‘এভাবে আর কখনো ঝগড়া করব না’—এমন প্রতিশ্রুতি ভালো শোনালেও সমস্যার মূল কারণ দূর করে না। বরং কেন ঝগড়া হলো, কোথা থেকে বিষয়টি বড় আকার নিল এবং দুজনের কার কোথায় ভুল ছিল—সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। সমস্যার মূল কারণ জানা গেলে ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতি এড়ানো সহজ হবে।
কথার চেয়ে কাজে পরিবর্তন দেখান
নিজেকে বদলে ফেলার কথা বারবার বলার চেয়ে আচরণের মাধ্যমে পরিবর্তন দেখানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, আগের মতো অল্পতেই রেগে না যাওয়া, সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনা কিংবা ছোটখাটো বিষয়ে আরও ধৈর্যশীল হওয়া। ধারাবাহিক ভালো আচরণই ধীরে ধীরে সম্পর্কের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
যুক্তিকে প্রতিযোগিতায় পরিণত করবেন না
প্রতিটি তর্কে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করাই সম্পর্কের লক্ষ্য নয়। সব কথার জবাব যুক্তি দিয়ে দেওয়া বা প্রতিটি বিষয়ে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গী ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করতে পারেন। তাই কোথায় নিজের বক্তব্য রাখা দরকার আর কোথায় বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া ভালো—সেটি বুঝতে হবে।
ঝগড়া সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ হতে পারে, কিন্তু ঝগড়ার পর কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো হচ্ছে সেটিই সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আন্তরিক ক্ষমা, সময়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন অনেকটাই দূর করতে পারে মনোমালিন্য।
সান নিউজ/ জামান