কানাডার সেনাবাহিনী । ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

মার্কিন আক্রমণ মোকাবেলায় কানাডার প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক শুল্কনীতি এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কানাডা। বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার মাঝে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই অটোয়া প্রশাসন এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের '৫১তম অঙ্গরাজ্য' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বারবার মন্তব্য এবং কঠোর বাণিজ্যিক নীতির কারণে দুই দেশের ঐতিহাসিক মিত্রতার সম্পর্কে নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে কানাডার সুরক্ষায় ট্রাম্প সচেষ্ট রয়েছেন এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সামরিক শক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্পও স্পষ্ট করেছিলেন যে কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক বল প্রয়োগের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

উভয় দেশ ন্যাটোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং নর্যাড (নোরাড)-এর মাধ্যমে যৌথভাবে উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের আকাশসীমা রক্ষা করে আসছে। দীর্ঘদিন রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক লেফটেন্যান্ট-জেনারেল ক্রিস্টোফার কোটসের মতে, দশকের পর দশক ধরে চলমান এই নিবিড় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ প্রায় অকল্পনীয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে ওয়াশিংটন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিলে তা সরাসরি প্রচলিত সামরিক হামলার পরিবর্তে সাইবার আক্রমণ বা অন্য কোনো কৌশলী চাপের মাধ্যমে শুরু হতে পারে।

দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস সবসময় শান্তিপূর্ণ ছিল না। ১৭৭৫ সালে আমেরিকান বাহিনী মন্ট্রিয়ল দখল এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধে কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়েছিল। এমনকি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির কথা মাথায় রেখে কানাডা সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং সীমান্তবর্তী মার্কিন শহরগুলোর কৌশলগত অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

বর্তমানেও সামরিক বিশেষজ্ঞদের তৈরি একটি মডেল অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে কানাডার কৌশলগত অবস্থানগুলো অল্প সময়ের মধ্যে চাপে পড়তে পারে এবং সেক্ষেত্রে কানাডীয় বাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদী গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ম্যাথিউ শ্মিটের মতে, যুদ্ধ বাধলে যুক্তরাষ্ট্র মূলত কানাডার তেল, খনিজ সম্পদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অচল করার চেষ্টা করবে। তবে সংখ্যাগতভাবে পিছিয়ে থাকলেও কানাডার সেনারা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে ৩০ শতাংশের বেশি কানাডীয় মার্কিন হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সামগ্রিকভাবে, কানাডার এই সামরিক প্রস্তুতি সরাসরি কোনো যুদ্ধের পূর্বাভাস নয়, বরং মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান অনিশ্চয়তা ও নানামুখী ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি সতর্কতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি।

সান নিউজ/রাজীব

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট

গাজীপুরের ডেগির চালা এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখান...

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ১ দিনের রিমান্ডে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রল...

মাদকসহ আটক খুবির ৩ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

মাদকদ্রব্য (গাঁজা)সহ আটকের ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাং...

প্রকাশ্যে বৃদ্ধের বুকে লোহার শিক ঢুকিয়ে হত্যা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় মধু মিয়া (৬২) নামে এক ভ্রাম্যমাণ ফল...

ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে গুড়িয়ে দিল আবাহনী

বাংলাদেশ ফুটবল লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেয়...

বাংলাদেশের সংবিধানে সংস্কারে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন: ইইউ রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্র...

অবৈধভাবে সার মজুত করে সব পদ হারালেন জামায়াত নেতা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার মজুত ক...

মার্কিন আক্রমণ মোকাবেলায় কানাডার প্রস্তুতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হলেও, মার্...

পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকার ও পাখতুনখোয়া প্রদেশ মুখোমুখি অবস্থানে

পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। কারাবন্দী সাবেক...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা