শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের মুখে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় দেশটির চার থেকে পাঁচ শ বিদ্যালয় আংশিক অথবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আজও বহু প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ছাড়িয়ে মার্সেই, মনপেলিয়ে ও নঁতের মতো বড় বড় শহরে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র শিক্ষক সংকট, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং বেহাল ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন। আন্দোলন দানা বাঁধার পর থেকে দেশজুড়ে অন্তত ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ কিংবা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে দেশটির হাজার তিনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক পঞ্চমাংশ কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির জন্য উগ্র রাজনৈতিক কর্মীদের দায়ী করেছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, কিছু উগ্র বামপন্থী কর্মী শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত আন্দোলনে সুকৌশলে প্রবেশ করে সেটিকে ধ্বংসাত্মক রূপ দিয়েছে। তাদের প্ররোচনায় আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের নিরাপত্তাই এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংঘর্ষের এ ঘটনায় শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যা নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেওয়ায় দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এদিকে সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পাঠদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ করার কাজ চলছে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ‘ভ্যান্ডাল-পে’ বিলের পর্যালোচনার কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের এসব আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা। উল্টো আগামী মঙ্গলবার আবারও রাজপথে নামার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।
সান নিউজ / রাজীব