দেশজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের অস্বস্তি। প্রচণ্ড গরমে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সবাই সচেতন হলেও অনেকেই খেয়াল করেন না—এই অতিরিক্ত তাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় তীব্র গরমে থাকলে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও চাপে পড়ে। শুরুতে ক্লান্তি ও অবসাদ দেখা দিলেও পরিস্থিতি খারাপ হলে তা হিট স্ট্রোক পর্যন্ত গড়াতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও ব্যাহত হয়, যার ফলে মনোযোগ কমে যায় এবং দৈনন্দিন কাজ ঠিকমতো করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বেশি হলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এই হরমোন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। এর মাত্রা কমে গেলে মানুষ সহজেই খিটখিটে, উদ্বিগ্ন এবং আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। ফলে সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে এবং চাপ সহ্য করার ক্ষমতা হ্রাস পায়।
গরমের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। উচ্চ তাপমাত্রার কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুম আসে না, ঘুম ভেঙে যায় বারবার। ফলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এই ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক অস্থিরতা, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের আগে থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই গরম পরিস্থিতি আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই তাপদাহের সময় শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।