মাঠের লড়াইয়ে গল্প লেখা ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের অসাধারণ বীরত্বগাথা, কঙ্গোর স্বাধীনতা সংগ্রামী প্যাট্রিস লুমুম্বাকে স্মরণ করে মিশেল এমবোলাদিঙ্গার সেই আবেগঘনা শ্রদ্ধা কিংবা নরওয়ের সমর্থকদের সেই অদ্ভুত সুন্দর ভাইকিং নৌকা বাইচের উল্লাস সব মিলিয়ে এবারের আসরটি ছিল সত্যিই রঙিন আর বৈচিত্র্যময়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের টুর্নামেন্টে অভিষেক ঘটে কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোর। ফুটবল বোদ্ধাদের একাংশ আশঙ্কা করেছিলেন, দলের সংখ্যা বাড়লে হয়তো বিশ্বকাপের গুণগত মান কমে যাবে।
আটলান্টিক মহাসাগরের মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার কেপ ভার্দে গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। এমনকি নকআউটে আর্জেন্টিনাকেও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় তারা। কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার কিংবা জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইকুয়েডরের সঙ্গে কুরাসাওয়ের ড্র- এই রূপকথাগুলো না থাকলে গ্রুপ পর্ব বেশ ম্যাড়মেড়ে হতো বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে বলা যায়, সাধারণ দর্শকদের হিসাব-নিকাশে আসরটা কিন্তু বেশ জমেছে! এই বিশ্বকাপের কল্যাণেই হয়তো বিশ্বের অসংখ্য মানুষ প্রথমবারের মতো কেপ ভার্দে নামের দেশটির ফুটবল সামর্থ্য সম্পর্কে জেনেছে। এছাড়া একসঙ্গে আফ্রিকার ৯টি দলের পরের পর্বে পা রাখা নিশ্চিতভাবেই এই টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
ফুটবলের এই বিশ্বমহোৎসবে রাজনীতির কালো ছায়াও কিন্তু কম পড়েনি। মাঠের বাইরের বেশ কিছু ঘটনা সাধারণ দর্শকদের মনে তীব্র বিরক্তির জন্ম দিয়েছে। ইরানি জাতীয় দলের সঙ্গে বাজে ও বৈষম্যমূলক আচরণ। তারকা খেলোয়াড় মিশেল এমবোলাদিঙ্গার নিজেরই ভিসা জটিলতা ও নাকচ হওয়ার মতো অদ্ভুত ঘটনা। মার্কিন স্ট্রাইকার বালোগুনের বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা, যার পেছনে নির্লজ্জ প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই অন্ধকারের মাঝেও ভালো দিক হলো বিশ্বকাপের মঞ্চের এই অসঙ্গতিগুলো এখন আর ধামাচাপার উপায় নেই। প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে অন্যায় আর উদ্ভট সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্ট সবার সামনে।
১৯৩০ সাল থেকে আমরা যা জেনে এসেছি, সেটাই যেন নতুন করে প্রমাণিত হলো ‘বিশ্বকাপ সত্যিই এক অসাধারণ জাদুকরী মঞ্চ’!
সান নিউজ/ হুমায়রা