ইউক্রেনের বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের একাধিক হামলায় রাশিয়ার পশ্চিমে মস্কো ও তামবভ অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৮ জন নিহত ও ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় দেশটির বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ-এর দুটি লজিস্টিক গুদাম। হামলার পর উভয় স্থাপনাতেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে থাকে।
রাশিয়ার ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভ বলছে, রাশিয়ার দীর্ঘদিনের হামলার জবাব হিসেবেই এসব পালটা আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেন এই অভিযানকে ‘দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর আগে দেশটি মূলত রাশিয়ার তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
এবার ইউক্রেন রাশিয়ার ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ গুদামে হামলা চালিয়েছে। এতে রাতের শিফটে কাজ করা আটজন কর্মী নিহত হন এবং গুদামগুলো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
ওয়াইল্ডবেরিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাতিয়ানা কিম বলেন, ‘এটি আমাদের প্রতিষ্ঠান ও দেশের জন্য ভয়াবহ একটি রাত। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।'
মস্কোয় ধোঁয়া ও ক্ষয়ক্ষতি
শনিবার সকালে মস্কোর আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা যায়, যা বিকেল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল বলে জানা গেছে।
মস্কো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইভগেনি পারভিশভ জানান, শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলায় একটি ওয়াইল্ডবেরিজ লজিস্টিক সেন্টারে সাতজন রাতের শিফটের কর্মী নিহত হয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলে একটি তেল ডিপো এবং আরেকটি ওয়াইল্ডবেরিজ গুদামেও হামলা হয়েছে বলে জানান আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা গেছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মস্কো অঞ্চলের এলেকট্রোস্টাল এলাকায় আগুন নেভানোর কাজ চলছিল। তামবভ অঞ্চলের আগুন পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এলেকট্রোস্টালে একটি খালি কিন্ডারগার্টেনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি।
দুই অঞ্চলের হামলায় প্রায় ৬৮ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকা ও অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাতের বেলায় মস্কো অঞ্চলের দিকে ৩৭০টির বেশি ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ১১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মস্কোর দিকে আসা প্রায় ১ হাজার ৮৯২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
তবে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি তেল ডিপোতে পড়ে সেখানে অগ্নিকাণ্ড ও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়। ইউক্রেনও ওই তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সান নিউজ/ হুমায়রা