আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত অর্জনের সম্ভাবনাতেও যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড এখন শুধু বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দাবিদারই নন, বরং ক্যারিয়ারের নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়েও সবচেয়ে এগিয়ে থাকা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ে মেসি নিজে গোল করতে না পারলেও ম্যাচের অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় ছিলেন। এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের করা দুই গোলেই অবদান রাখেন তিনি। এ নিয়ে চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮টি এবং অ্যাসিস্ট ৪টি।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে। তারও গোল ৮টি, তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে মেসি এগিয়ে আছেন। ফলে টাইব্রেকারের ক্ষেত্রেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার ও বিভিন্ন স্পোর্টসবুকের বিশ্লেষণেও মেসিকেই গোল্ডেন বুট জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান কালশির তথ্যমতে, এই পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে মেসির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এমবাপের সামনে এখনও মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স। ওই ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করলে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারেন ফরাসি অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনও তালিকায় রয়েছেন, তবে তার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
বিশ্বকাপের আগে ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য দাবিদারদের তালিকায় কিলিয়ান এমবাপে, হ্যারি কেইন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের নাম আলোচনায় ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পর পুরো সমীকরণ বদলে গেছে।
বর্তমানে মেসিকে তার নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম বড় ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে। নকআউট পর্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান অন্যদের থেকে আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
স্পেনকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা লামিনে ইয়ামালও আলোচনায় রয়েছেন। তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানে মেসির চেয়ে পিছিয়ে আছেন তিনি। ১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ উইঙ্গারের বিশ্বকাপ গোল ১টি, অ্যাসিস্ট নেই। অন্যদিকে মেসি সরাসরি ১২টি গোলে অবদান রেখেছেন।
অবশ্য স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে এবং ইয়ামাল ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্স করলে তার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দেওয়া মেসির প্রভাবই তাকে এগিয়ে রাখছে।
২০০৯ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জেতেন মেসি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
সান নিউজ/ জামান