কুয়েতের মিনা আব্দুল্লাহ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি লজিস্টিক ও সাপোর্ট সেন্টারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার রাতে পরিচালিত ওই হামলায় তাদের একটি ড্রোন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। ভিডিওতে একটি ড্রোনকে আগুন জ্বলতে থাকা একটি স্থানে আঘাত হানতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানায়, ইরানের হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে, যা সেনাবাহিনী ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ওই অগ্নিকাণ্ড মিনা আব্দুল্লাহ এলাকার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানায়নি কুনা।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পর আইআরজিসি আরও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য রপ্তানি করিডোরও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির পথ হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো সবার জন্যই বন্ধ থাকবে।
এদিকে, কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান পরোক্ষভাবে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে চাপ সৃষ্টির ইঙ্গিত দিতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ রুট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই নৌপথ দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিসহ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিচালিত হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সান নিউজ/ জামান