ওমানের জলসীমার কাছে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ নৌপথে চলাচলের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহতসহ আরও আটজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। হামলার পর উভয় জাহাজে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোরে সংঘটিত এই হামলার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকার দুটির নাম মোম্বাসা এবং আল বাহিয়াহ। নিহত ব্যক্তি মোম্বাসা জাহাজে কর্মরত একজন ভারতীয় নাবিক। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায় এবং কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি। একই সঙ্গে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কালহাত উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে একটি ট্যাংকারের ডান পাশের ইঞ্জিন কক্ষে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতের বিষয়ে জাহাজটির মাস্টারের কাছ থেকে তারা একটি প্রতিবেদন পেয়েছে।
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ওই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সন্দেহজনক যেকোনো কার্যকলাপ দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা তৃতীয় দিনের মতো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান পরিচালনার পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেল পরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।