খাগড়াছড়িতে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় আবাদী জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়াও পাঁচ উপজেলার ৭হাজার ৩৪৪ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের বীজতলা, আউশ ধান এবং গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি। পাশাপাশি রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনটি খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১২ কোটি ২০ লক্ষ টাকার উপরে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
সাম্প্রতিক জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ফসলের ক্ষতি : ফসলি জমি ৮হাজার ৩৫৫ হেক্টর,
আবাদকৃত ৮ হাজার ১৩০ হেক্টর। বন্যায় কবলে ১০৩১ হেক্টর। ২৩৩ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ ও ১৯৩ হেক্টরের বেশি জমির ফসল আংশিকভাবে নষ্ট হয়েছে বলে জানা যায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী।
কৃষি বিভাগের পরিচালক নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা চূড়ান্ত ভাবে শেষ করেছি। যথা সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার সহায়তা প্রদান করা হবে।
এদিকে মৎস্য চাষে জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ উপজেলার ৩৪৫ জন মাছ চাষির ৪০৫টি পুকুর ভেসে গিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজু আহমেদ।
অপরদিকে খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,সৃষ্ট বন্যায় জেলায় ৩টি গরু ও ৩টি ছাগল মারা গেছে। ১১টি পোল্ট্রি ও ১২টি ডেইরি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১০০টনের মত শুকনোখড় এবং ৫০ একর ঘাসের জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে ফসলি জমির ক্ষতের চিহ্ন। পচা কাদাপানি পরিস্কার করে নতুন বীজতলা তৈরির জন্য কৃষকদের বাড়তি অর্থ যোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে
বিনামূল্যে বীজ ও প্রণোদনা প্রদানের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সান নিউজ/ জামান