জাতীয়

সমুদ্রপথে ঢুকছে অবৈধ অস্ত্রের চালান, সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র

খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল

বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশের নতুন নতুন পথ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে শুরু করে বঙ্গোপসাগরের জলপথ—বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অস্ত্রের চালান দেশে ঢুকছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্ককে অস্ত্র পাচারের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। চোরাকারবারিরা প্রচলিত অর্থ লেনদেনের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর গোপন পদ্ধতিও ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্র এই অঞ্চলের দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। অস্ত্র বিক্রির অর্থ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অস্ত্র উদ্ধার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং অস্ত্র সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাড়ছে অস্ত্র মামলা

পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এসব এলাকায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে ৫৪৮টি। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২৪টিতে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অস্ত্র আইনে ৩০২টি মামলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্থল ও নৌপথে সক্রিয় পাচার নেটওয়ার্ক

সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম বিভাগ ও পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলো ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাচারকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দিয়ে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র প্রবেশের চেষ্টা করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।

অন্যদিকে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে অস্ত্র আনার চেষ্টা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন নৌরুট ব্যবহার করে উপকূলীয় এলাকা দিয়ে এসব চালান প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে পাচারকারীরা।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের কিছু উপকূলীয় এলাকা এ ধরনের চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিজিটাল লেনদেনের নতুন কৌশল

অপরাধ তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী চক্রগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে গোপন ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অস্ত্রের বাজার ও দাম

অপরাধ জগতের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্রের ধরন, সরবরাহের উৎস এবং হাতবদলের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে দাম পরিবর্তিত হয়।

স্থানীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র থেকে শুরু করে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র অপরাধী চক্রের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। একাধিকবার হাতবদল হওয়ার কারণে অস্ত্রের দাম অনেক ক্ষেত্রে কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা অপরাধ বৃদ্ধি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস, পরিবহন ব্যবস্থা এবং অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে না পারলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সফলতা পাওয়া কঠিন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সীমান্তরক্ষী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সীমান্ত ও সমুদ্রপথে সক্রিয় চোরাচালান নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করতে হলে চোরাকারবারিদের পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সান নিউজ/ জামান

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

৩ নভেম্বরের মহাসমাবেশ সফল করতে রংপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রস্তুতি সভা

সারাদেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ৩ নভেম্বর ঢাক...

স্কুলের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই স্কুলের ৪টি গাছ কেটে ফেলা...

অটিজম-ডাউন সিনড্রোম চিকিৎসায় সাড়া ফেলেছেন ডা. মুছা

একটি শিশু যখন কথা বলতে পারে না, নিজের পায়ে হাঁটতে...

মুন্সীগঞ্জে ৩ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু উত্তর থানার খানবাড়ি বাসস্ট...

সেনা মোতায়েন করে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রাখতে সফল ইতালি

ইতালির মিলান, রোম ও তুরিনসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে শনিবার হাজার হাজার তরুণ-তরুণী...

‘কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন?’

নিজের বসতভিটায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে...

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনের তাগিদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা ও সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না থ...

মামলা করলেন আসিফ আকবর

রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় হত...

বিলাসী জীবন থেকে কারাগারে বন্দি সেই মডেল

একসময় বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন মডেল শ্রদ্ধা দুবে। তবে ক্...

ঢাকায় আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেতা বিলাল আব্বাস খানের বাংলাদেশ সফর ঘিরে ভক্তদের মধ্য...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা