আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরণের পালাবদলের আভাস মিলছে। ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারত ছাড়িয়ে যাবে অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপানকে। একই সময়ে পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপানকে পেছনে ফেলে পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে যুক্তরাজ্যও।
আইএমএফের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস।
জিডিপি র্যাংকিংয়ে যে পরিবর্তন আসছে
আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চিত্রটি নিম্নরূপ:
চলতি বছর (২০২৬): বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চতুর্থ অবস্থানে থাকবে জাপান (জিডিপি ৪ লাখ ৩৪ হাজার কোটি ডলার)। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের জিডিপি ৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি ডলার এবং ভারতের অর্থনীতির আকার ৪ লাখ ৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
আসন্ন বছর (২০২৭): দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসবে আগামী বছর। ২০২৭ সালে ভারতের জিডিপি উল্লম্ফন ঘটিয়ে ৪ লাখ ৫২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে, যার ফলে দেশটি হবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। পাশাপাশি ৪ লাখ ৪৯ হাজার কোটি ডলারের জিডিপি নিয়ে যুক্তরাজ্য পঞ্চম এবং ৪ লাখ ৪৭ হাজার কোটি ডলার নিয়ে জাপান ষষ্ঠ স্থানে নেমে যাবে।
জাপানের পিছিয়ে পড়ার মূল কারণসমূহ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক দৌড়ে জাপানের এই পেছনের সারিতে চলে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু গভীর কারণ রয়েছে:
মুদ্রার অবমূল্যায়ন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মান ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলারের হিসাবে দেশটির অর্থনীতির সামগ্রিক আকার সংকুচিত হচ্ছে।
ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়: ইয়েনের দরপতন ও মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
জনমিতিক চ্যালেঞ্জ ও ধীর প্রবৃদ্ধি: জাপানে বয়স্ক বা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দ্রুত বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতি দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের জাপানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও আইএমএফের নতুন হিসাবে সেই সময়সীমা দুই বছর এগিয়ে এসেছে। তাছাড়া এর আগে ধারণা করা হয়েছিল ভারত হয়তো ২০২৫ সালেই জাপানকে পেছনে ফেলবে, যা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালে জার্মানির কাছে নিজেদের দীর্ঘদিনের ধরে রাখা তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির মুকুট হারায় টোকিও।
বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র ও ইতিবাচক দিক
সব চ্যালেঞ্জের মাঝেও জাপানি অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক বিষয়ের কথা জানিয়েছে আইএমএফ। গত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচির ফলে জ্বালানির চড়া মূল্যের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা দেশটির প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে এবং ২০২৭ সালে তা সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তবে আইএমএফের গবেষণা বিভাগের প্রধান দেনিজ ইগান সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ব্যবধান ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
সান নিউজ / রাজীব