বাংলাদেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। টানা কয়েক মাসের ওঠানামার পর মে মাসে কিছুটা স্থিতি ফিরলেও নতুন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির পরিবর্তন খাতটিকে আবারও অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রফতানি আয়ের চিত্র
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে দেশের তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট আয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫১৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাত থেকে এসেছে ১ হাজার ৮৭৮ কোটি ডলার এবং ওভেন গার্মেন্টস থেকে ১ হাজার ৬৫২ কোটি ডলার।
তবে আগের বছরের তুলনায় মোট রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৩.৪১ শতাংশ। একই সময়ে দেশের মোট রফতানিও হ্রাস পেয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় দেশের রফতানি খাত চাপের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) এক পরিচালক বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত। এর প্রভাব সরাসরি অর্ডার কমে যাওয়ার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা আগের মতো অর্ডার দিচ্ছেন না। নতুন শুল্কনীতিকে তিনি বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের জোরপূর্বক শ্রম নেই এবং এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
নীতিগত চাপ ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে একের পর এক শর্ত আরোপ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে শ্রম অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রম আইন বাস্তবায়নের ওপরও জোর দিচ্ছেন তারা।
বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন, শ্রম আইন ও শ্রম অধিকার উন্নত না করলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।
অন্যান্য খাতের চিত্র
তবে পোশাক খাতের চাপের মধ্যেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মে পর্যন্ত ১১ মাসে এই খাতে রফতানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৯ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৭৪ শতাংশ বেশি।
সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি খাত এখন বড় ধরনের নীতিগত ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে।