বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের জন্ম দিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২ হাজার ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে দেশের প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নারী দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা জ্যোতি। ওয়ানডের তুলনায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার নিয়মিতভাবেই ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় নতুন নতুন রেকর্ড যুক্ত করে চলেছেন। এবার তার নাম যুক্ত হলো দেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এক মাইলফলকে।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২ হাজার ৫০০ বা তার বেশি রান করা ক্রিকেটারের সংখ্যা এখন তিনজন। প্রথমে এই কীর্তি গড়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পরে সেই তালিকায় জায়গা করে নেন বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। সর্বশেষ তাদের পাশে নিজের নাম লেখালেন নিগার সুলতানা জ্যোতি।
পরিসংখ্যান বলছে, সাকিব আল হাসান ১২২ ইনিংসে ২,৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। লিটন দাস এই অর্জনে পৌঁছাতে খেলেন ১১০ ইনিংস। অন্যদিকে জ্যোতি ১১৬ ইনিংসেই পৌঁছে যান কাঙ্ক্ষিত এই রেকর্ডে, যা তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যে ম্যাচে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, সেই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ে সহায়তা করেন। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেটে এই তালিকার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও থেমে যেতে হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শেষ করার সময় তার সংগ্রহ ছিল ২ হাজার ৪৪৪ রান। মাত্র ৫৬ রান কম থাকায় তিনি ২,৫০০ রানের ক্লাবে প্রবেশ করতে পারেননি।
নারী ক্রিকেটে জ্যোতির আধিপত্য আরও স্পষ্ট পরিসংখ্যানে। বর্তমানে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ২ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়েছেন। এছাড়া টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক হাজারের বেশি রান রয়েছে কেবল ফারজানা হকের। ফলে অদূর ভবিষ্যতে ২,৫০০ রানের এই এলিট ক্লাবে জ্যোতির কোনো সঙ্গী পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে জ্যোতির এই অর্জন নিঃসন্দেহে একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার নেতৃত্ব ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স টাইগ্রেসদের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন আত্মবিশ্বাস যোগাবে বলেও মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।