বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। নির্বাচন তফসিল এবং ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এবং শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বিসিবির পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।
এর আগে বিসিবির নির্বাচন তফসিল এবং ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ছয়জন কাউন্সিলর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কিছু বিষয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে আদালত রিটটি খারিজ করে দেওয়ায় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকছে না।
বিসিবির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় গত ১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৬ সালের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে ১৭ মে বিকেলে প্রকাশ করা হয় খসড়া ভোটার তালিকা। নির্বাচনী বিধি অনুসারে এই নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত করবে আরও দুইজন পরিচালক। পরে মোট ২৫ জন পরিচালকের ভোটে নির্বাচিত হবেন বিসিবির নতুন সভাপতি।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ও সহকারী সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা দূর হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।