তীব্র গরম বা তাপপ্রবাহে শরীরের ওপর মারাত্মক চাপ পড়ে, যার ফলে অনেক সময় হিট স্ট্রোকের মতো জটিল অবস্থা দেখা দেয়। অন্যদিকে একই সময়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে। সমস্যা হলো, এই দুই অবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটাই একরকম হওয়ায় সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীর যখন নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় এবং অতিরিক্ত তাপ বের করতে পারে না, তখন হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। এটি একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি, ঠিক একইভাবে হার্ট অ্যাটাকও জীবনঘাতী জরুরি অবস্থা, তবে এর কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।
হিট স্ট্রোক কেন হয়?
হিট স্ট্রোক সাধারণত অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে ঘটে। শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে, পানি শূন্যতা দেখা দিলে বা সরাসরি রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক কেন হয়?
হার্ট অ্যাটাক ঘটে যখন হৃদপিণ্ডে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে হৃদপেশিতে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না এবং হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
লক্ষণগুলো কীভাবে আলাদা করবেন?
হিট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়:
- শরীরের তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যাওয়া
- ত্বক অতিরিক্ত গরম ও কখনও শুষ্ক বা ঘর্মাক্ত
- মাথা ঘোরা ও বিভ্রান্তি
- তীব্র মাথাব্যথা
- বমি বমি ভাব
- দুর্বলতা ও ক্লান্তি
- দ্রুত হৃদস্পন্দন
- গুরুতর ক্ষেত্রে অচেতন হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি
এটি সাধারণত গরমে বেশি সময় কাজ করা বা রোদে থাকার পর দেখা দেয়। দ্রুত শরীর ঠান্ডা করা এবং চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো হলো:
- বুকে চাপ বা তীব্র ব্যথা
- বুক ভারী বা চেপে ধরার অনুভূতি
- ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট
- অতিরিক্ত ঘাম
- বমি বমি ভাব
- হঠাৎ দুর্বলতা
বিশেষ করে নারী ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কখনও কখনও তীব্র বুক ব্যথার পরিবর্তে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, হালকা অস্বস্তি বা বদহজমের মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
কখন জরুরি সাহায্য নেবেন?
হিট স্ট্রোকের সন্দেহ হলে দ্রুত রোগীকে ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে, শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, কারণ সময়মতো চিকিৎসা হৃদপিণ্ডকে বড় ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।
উভয় ক্ষেত্রেই দেরি করা জীবনঘাতী হতে পারে। গরমের এই সময়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।