উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একইসঙ্গে ‘আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে’ ইরানের কৌশলগত কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে নিক্ষেপ করা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস বা ব্যর্থ হয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিলিতভাবে ভূপাতিত করে।
সেন্টকম আরও জানায়, ইরান থেকে উৎক্ষেপিত অন্তত তিনটি ড্রোনও আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে, যেগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের দিকে নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাঝপথেই বিধ্বস্ত হয়। কুয়েতের সামরিক কর্তৃপক্ষও জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ প্রতিহত করেছে।
এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সেন্টকম জানিয়েছে, সেখানে অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। তবে এতে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি করেছে, ইরানের সব হামলাই ব্যর্থ হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম আরও জানায়, “ইরানের কোনো হামলাই সফল হয়নি।”
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে।
সূত্র: এনডিটিভি