মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। দ্বীপটিতে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে সতর্ক বা বিচক্ষণ হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং বলেছেন তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। নিজেদের মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে উভয়পক্ষ পথ খুঁজবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবারের ওই ফোনালাপকে ‘চমৎকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বেইজিং সফর করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আগামী এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে দুই দেশের নেতার মধ্যে ফোনালাপ হলো।
এ নিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, চীন ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ ভালো। দুজনই বুঝতে পারছেন সুসম্পর্ক বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ফোনালাপে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলাপ হয়েছে। চীন সয়াবিন আমদানির পরিমাণ ১২ থেকে ২০ মিলিয়নে উন্নীত করার কথা বিবেচনা করছে।
তাইওয়ান, সয়াবিন ছাড়াও ট্রাম্প ও শি-এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের তেল, গ্যাস কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফোনালাপে তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি জিনপিং বলেন, স্বশাসিত দ্বীপটি চীনের ভূখণ্ড। বেইজিংকে অবশ্যই এর সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে হবে। তাই দ্বীপটির কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতার সঙ্গে সামলানো উচিত।
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে বেইজিংয়ের সঙ্গে একত্রিত করার অঙ্গীকার করে আসছে। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তাদের বিবেচনায় রেখেছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা দেয়।
সে সময় বেইজিং বলেছিল, তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করার এই প্রচেষ্টা অঞ্চলটিকে সহিংস পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। বুধবার ফোনালাপের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শি জিনপিং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেমন উদ্বেগের জায়গা আছে, তেমনি চীনেরও নিজস্ব উদ্বেগের বিষয় আছে। যদি দুই পক্ষ সমতা, সম্মান এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে, তাহলে উদ্বেগ নিরসনের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের নেতা লাই চিং সাংবাদিকদের বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটল আছে। চলমান সহযোগিতামূলক প্রকল্পগুলোও অব্যাহত থাকবে।
সান নিউজ/আরএ