নিজের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে ফ্রান্সকে যুক্ত করতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই উদ্যোগে যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁকে বাধ্য করতে দেশটির ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন।
বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
এমানুয়েল মাখোঁ এই বোর্ডে যোগ দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন-একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেন, ‘তিনি (মাখোঁ) কি তাই বলেছেন? আসলে কেউ তাঁকে এই বোর্ডে চায় না। কারণ, খুব শিগগিরই তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নিচ্ছেন।’
এরপরই শুল্কের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফরাসি ওয়াইন আর শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব। তখন দেখবেন তিনি ঠিকই যোগ দেবেন। অবশ্য তাঁকে যোগ দিতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্রান্স আপাতত ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা ঘোষণার সময় ট্রাম্প প্রথম এই বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের কাছে এ–সংক্রান্ত একটি খসড়া সনদ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের হাতে আসা ওই নথিতে দেখা গেছে, কোনো দেশ যদি এই বোর্ডের সদস্যপদ তিন বছরের বেশি স্থায়ী করতে চায়, তবে তাদের নগদ ১০০ কোটি ডলার চাঁদা দিতে হবে।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেরা সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাঁদের মতে, এটি জাতিসংঘের কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
একই দিনে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও এই বোর্ডের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁকে (পুতিন) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল বা ফরাসি পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের মতো একের পর এক আক্রমণাত্মক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছেন।
তথ্যসূএ: রয়টার্স
সাননিউজ/এসএ