নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের যে সময়সীমা অনিশ্চয়তায়। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ১০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করবেন। সভা আহ্বান না করা হলে কী হবে, তা বলা নেই আদেশে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের আজকের অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে সামনে আনতে পারে বিরোধী দল। এতে প্রথম দিনের মতো আজও সংসদে উত্তাপ ছড়াতে পারেন নেতারা।
গতকাল শনিবার বিএনপি বলছে, পরিষদের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। অন্যদিকে সভা আহ্বানে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে জামায়াতে ইসলামী বলছে, গণভোটের রায় কার্যকর না করলে তারা রাজপথে যেতে বাধ্য হবে। আর এনসিপির দাবি, সভা আহ্বান না করে প্রধানমন্ত্রী গণভোটের গণরায় অমান্য করেছেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। এ হিসাবে আজ ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। সময় পার হওয়ার পর কী হবে– এ বিষয়ে সাবেক ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরাও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পরিষদের ভবিষ্যৎ গণভোট এবং আদেশের বৈধতা নিয়ে করা রিটে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে রুল জারি করেছেন। ফলে কেউ কেউ বলছেন, আদালতের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করছে।
গত বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে সংবিধান সংস্কারে ৪৮টি প্রস্তাব করা হয়, যা জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃতীয় দফার সংলাপে সনদ বাস্তবায়নে ছয়টি পদ্ধতি প্রস্তাব করা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করে সাবেক ঐকমত্য কমিশন।
বিএনপি গণভোটে একমত হলেও, আদেশ জারির বিপক্ষে ছিল। গত ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদনে রাষ্ট্রপতি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন। এর ওপর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোট হয়। ৬৮ শতাংশের বেশি ভোটে আদেশটি অনুমোদন হয়।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, সংবিধানে ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। একই পদ্ধতিতেই পরিষদের সভা আহ্বান করার কথা। প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেননি বলেই রাষ্ট্রপতি সভা ডাকেননি। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী গণভোটের রায়কে লঙ্ঘন করেছেন। কেন তিনি এই কাজ করেছেন, এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দলটির অবস্থান হলো ৩০ পার হলে তারা আর সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকবে না। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তারা এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাবে এবং সে অনুযায়ী নিজেদের মত করে জুলাই সনদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
পরিষদের অধিবেশন ডাকতে গতকাল সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে জামায়াত জোট। অন্যথায় রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। রাজধানীর মগবাজারে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর জোটের সমন্বয়ক জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বিরোধী জোট। সরকার যদি আজ রোববারের মধ্যে পরিষদের অধিবেশন না ডাকে বা ডাকার ব্যবস্থা না করে, তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা পাবে না। সংসদ নেতাসহ সরকারকে দায়দায়িত্ব নিতে হবে।
জামায়াত জোট বলছে, বিএনপি ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও গণভোটে হ্যাঁ পেয়েছে ৬৯ শতাংশ ভোট। বিএনপির চেয়ে জুলাই সনদের ম্যান্ডেট বড়।
সান নিউজ/আরএ