রাজনীতি

ঈদের পরে বিরোধী জোটের বড় কর্মসূচি আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এ পরিষদ গণভোটের ফল অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল এবং দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের বিধান সংবিধানে যুক্ত করবে। ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিয়ে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন করবে। এই আটটি ছাড়াও গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের যে ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে সব দলের ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। বাকি ১০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে প্রথম আট প্রস্তাবের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদে বাকিগুলোতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে রাজি নয়। তবে জামায়াত জোট বলছে, এগুলোই আসল সংস্কার।

বিএনপি পরিষদের শপথ না নিলেও, জামায়াত জোটের ৭৭ জনসহ ৭৮ এমপি শপথ নিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপতি পরিষদের সভা আহ্বান না করলেও, কোরামের (৬০ জন) চেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য শপথ নেওয়ায় পরিষদ গঠিত হয়ে গেছে।

বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে পরিষদে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায়। তবে বিএনপি জুলাই সনদকে সংসদে বাস্তবায়ন করতে চায় নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংস্কারের সংলাপে বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে।

সরকারি দল শপথ না নিলে জামায়াতের রাজপথে নামার যে ঘোষণা দিয়েছে– এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা তাদের জিজ্ঞেস করেন।

১১ দলের বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি পরিষদের অধিবেশন ডাকবে না– এটা তারা নিশ্চিত। সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংসদে বিরোধী দলের পক্ষে কিছু করা অসম্ভব। তাই জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি রাজপথে নিয়ে যেতে চান তারা। তবে ঈদের কারণে এখনই কর্মসূচি দেওয়া হবে না। আগামী ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি ঠিক হবে। শুরুতে সংসদে এমপিদের প্রতিবাদ, রাজপথে সভা-সমাবেশ-মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদ এবং পরিষদের অধিবেশন একই সঙ্গে ডাকার কথা। কিন্তু অধিবেশন ডাকা হয়েছে শুধু জাতীয় সংসদের। এতে বোঝা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের পর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। হ্যাঁ ভোট দেওয়া ৭০ শতাংশ ভোটারকে অপমান করা হয়েছে।

বর্তমান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। সেই সময়ে তিনি এবং ঐকমত্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল আদেশ জারি এবং আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। আসাদুজ্জামান বর্তমান সরকারের সময় আইনমন্ত্রী। তাঁর দল আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও মন্ত্রী নীরব রয়েছেন।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও এ বিষয়ে নীরব। তবে তিনি শুক্রবার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, আমরা অবগত, জুলাই আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে কারও কারও মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তবে আমরা ডকট্রিন অব নেসেসিটি এবং ডকট্রিন অব উইল অব দ্য পিপল সম্পর্কে সচেতন ছিলাম। নির্বাচিত সংসদ পোস্টভ্যালিডিটি দিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছে– এমন নজিরগুলোও আমাদের প্রত্যাশা নির্ধারণে বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। এসব বিবেচনায় বর্তমান সরকারের সুযোগ রয়েছে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করার।

সান নিউজ/আরএ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট মিজানের ঘুষ বাণিজ্য

ঘুষ, অনিয়ম ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কার্যত জিম্মি হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জ...

সংবিধান সংস্কার আদৌ হবে কি?

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের যে...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের প্রস্ততি!

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মেরিন স্থল সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তর...

ঈদের পরে বিরোধী জোটের বড় কর্মসূচি আসছে

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত...

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের প্রস্ততি!

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মেরিন স্থল সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে যুক্তর...

ঈদের পরে বিরোধী জোটের বড় কর্মসূচি আসছে

হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত...

সংবিধান সংস্কার আদৌ হবে কি?

নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের যে...

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট মিজানের ঘুষ বাণিজ্য

ঘুষ, অনিয়ম ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে কার্যত জিম্মি হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জ...

শক্ত অবস্থানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখনো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব অক্ষত আছে। দেশট...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা