বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়। দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করেছে টাইগাররা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে চাপে পড়ে সফরকারীরা। বৃষ্টির আগে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে তারা।
ম্যাচের শুরুতেই বিরল এক লজ্জার রেকর্ড গড়ে অস্ট্রেলিয়া। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন ব্যাটারকে হারায় দলটি। ওয়ানডে ক্রিকেটে এক হাজারের বেশি ম্যাচ খেলার ইতিহাসে প্রথমবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় অজিরা।
বাংলাদেশের হয়ে নতুন বল হাতে দুর্দান্ত বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ। মোস্তাফিজুর রহমানও ছিলেন সমান কার্যকর। এছাড়া স্পিনার তানভীর ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন।
তবে বিপর্যয়ের মাঝেও মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেট সপ্তম উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৪২ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৭ রান।
বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ম্যাচ ৪১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে বাংলাদেশের সামনে আসে ১৯২ রানের চ্যালেঞ্জ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান। সৌম্য ৪২ রান করে আউট হলেও দলের ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে যান।
শান্তও ৪২ রান করে বিদায় নেন। তবে এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেই সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্ব নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনই পরিণত ব্যাটিং করে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেন। খারাপ বল কাজে লাগিয়ে রান তুলেছেন, আবার প্রয়োজনীয় সময় ধৈর্যেরও পরিচয় দিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৪০ এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে স্মরণীয় জয় উপহার দেন। ৩৬ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ, পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ও তুলে নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট শিকার করেন ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, অ্যাডাম জাম্পা, জেভিয়ার বার্টলেট ও রাইলি মেরেডিথ।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু একটি সিরিজ নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন হলো। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টাইগাররা প্রমাণ করল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারা এখন আরও পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী এক শক্তি।