দেশে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একদিনের ব্যবধানে নতুন এই মৃত্যুর ঘটনায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ে নতুন করে আরও শতাধিক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে হাজারে হাজারে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫ হাজারের বেশি।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং অনেকে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানে উদ্বেগ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০-এর বেশি। একইসঙ্গে সন্দেহভাজন উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আরও কয়েকশ’ ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের বিস্তার শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিশু টিকাদানের আওতার বাইরে রয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
তাদের মতে, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা কার্যক্রমও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ার শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে হামের প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে শিশুদের জীবনহানি ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে।