ভেলেজ সার্সফিল্ডের তরুণ উইঙ্গার কিকি রামোস অবশেষে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। হাইতিতে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার পরে আর্জেন্টাইন নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে তিনি দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে কিকি রামোস তার ব্যক্তিগত জীবন, জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং হাইতির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন। আলোচনায় উঠে আসে ২০১০ সালে হাইতিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের বিষয়টিও।
২০০৯ সালে আর্জেন্টাইন নাগরিকত্ব পাওয়া স্টিফেন ‘কিকি’ রামোস রেডিও লা রেডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙেন। অনূর্ধ্ব-১৭ দলে অভিষেকের পর দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আর্জেন্টিনায় নিজের অভিজ্ঞতা, বর্ণবাদের বিষয় এবং জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবর জানার মুহূর্ত নিয়েও কথা বলেন।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করা এই তরুণ ফরোয়ার্ড বলেন, “আর্জেন্টিনায় আসার পর থেকে আমি কখনো বৈষম্যের শিকার হইনি। নিজেকে কখনো অন্যদের থেকে আলাদা মনে হয়নি। আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনা বর্ণবাদী—এ কথা অনেকেই শুধু বলার জন্য বলে। আর্জেন্টিনা একটি সুন্দর দেশ।”
এরপর জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তে তিনি কী করছিলেন, তার বর্ণনা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি তখন অনলাইনে গণিতের ক্লাসে ছিলাম, ভেলেজের আমার ফিজিক্যাল ট্রেইনারের কাছ থেকে একটা মেসেজ পাই। তাতে লেখা ছিল অভিনন্দন, কিন্তু আমি ক্লাসে এতটাই মনোযোগী ছিলাম যে মেসেজটা ঠিকভাবে খেয়াল করিনি। এরপর বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক মেসেজ আসতে শুরু করে। যখন আমার ফিজিক্যাল ট্রেইনারের মেসেজে ঢুকি, সেখানে লেখা ছিল ‘এএফএ’। প্রথমে আমি ভুল পড়েছিলাম মনে করেছিলাম, তারপর বিশ্বাসই করতে পারিনি। ক্লাস থামিয়ে দৌড়ে গিয়ে বাবা-মাকে খবরটা জানাই।’
২০১০ সালে হাইতিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। ওই ভূমিকম্পে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় নেমে এসেছিল অপরিমেয় মানবিক সংকট। তিনি বলেন, ‘এর আগেই সব কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল, ভূমিকম্প হওয়ার সময় আমি তখনও এতিমখানাতেই ছিলাম। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমি ছিলাম সেই শিশুদের একজন, যাদের কিছু হয়নি।’
কিছুদিন পর তিন হাইতিয়ান শিশুসহ তার বাবা-মা দেশে পৌঁছান, যাদের সঙ্গে আগে কিকির নিজেরও পরিচয় ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি যখন একটু বড় হই, তখন এই গল্পটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি। তবে বাবা-মা আমার আর আমার ভাইবোনদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো হাইতিতে যাইনি, আজ আর্জেন্টিনায় যে জীবন আছে তাতেই আমি ভালো আছি। ফিরে যাওয়ার কথা কখনো ভাবিওনি, তবে হয়তো বয়স বাড়লে এই বিষয়ে আগ্রহ জন্মাতে পারে।’
সান নিউজ/ রাব্বি