২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চিকিৎসা ব্যয় কমাতে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপর কর ও ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে । এর ফলে হার্টের রিং (স্টেন্ট),চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স ও ডায়ালাইসিস সামগ্রীর দাম কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব থাকছে। এতে প্রতিটি রিংয়ের খরচ প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
একইভাবে বাজেটে চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর ঘোষণা আসতে পারে। এতে প্রতিটি লেন্সের দাম প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
এছাড়া হেমোডায়ালাইসিসের ব্লাড টিউবিং সেট আমদানির ক্ষেত্রেও সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের আগাম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব থাকতে পারে।
পাশাপাশি মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত মরচুয়ারি আমদানিতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার উদ্যোগ থাকছে।
দেশীয় ওষুধশিল্পকে আরও সক্ষম করতে বাজেটে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার তালিকায় নতুন করে আরও ৯টি পণ্য যুক্ত করার প্রস্তাব থাকছে। এছাড়া অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই) তৈরির ৫১টি নতুন কাঁচামালের আমদানি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ওষুধ রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামাল রেয়াতি সুবিধার আওতায় আনা হতে পারে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
সান নিউজ/ জামান