হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। হৃদযন্ত্রের রক্তনালিতে ব্যবহৃত করোনারি স্টেন্ট বা হার্টের রিংয়ের নতুন মূল্য কার্যকর করতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর (ডিজিডিএ)।
মঙ্গলবার (৯ জুন) অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পুনঃনির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করে স্টেন্ট বিক্রি ও ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অধিদফতর জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশনা এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আমদানিকৃত বিভিন্ন ধরনের করোনারি স্টেন্টের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমদানি ব্যয়, শুল্ক, ভ্যাট, কমিশন, বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচ এবং আমদানিকারকদের যৌক্তিক মুনাফা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে স্টেন্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন মূল্য বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মূল্য পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে তা বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় পর্যালোচনা করা হয়। সব দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত মূল্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় হাসপাতালগুলোর জন্য কয়েকটি বাধ্যতামূলক শর্তও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সকল হাসপাতালের নোটিশ বোর্ডে নতুন মূল্য তালিকা দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা, নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) অনুসারে বিক্রি নিশ্চিত করা এবং স্টেন্টের মূল্যকে কোনো চিকিৎসা প্যাকেজের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করা।
দাম কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বিভিন্ন মডেলের স্টেন্টে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিছু হার্টের রিংয়ের মূল্য সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।
বিশেষভাবে সিলিন কাভার্ড স্টেন্টের মূল্য ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ম্যাগমা র্যাপামাইসিন স্টেন্টের দাম ৩৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ হাজার টাকায় আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন মূল্য কার্যকর হলে হৃদরোগ চিকিৎসার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সাধারণ রোগীরা আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে স্টেন্টের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।