“চিনি কম খান, ক্ষত দ্রুত সেরে উঠবে”—এই কথাটি অনেকেই শুনে থাকেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার মধ্যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, যদিও এটি একমাত্র কারণ নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে থাকলে তা শরীরের ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দিতে পারে।
ক্ষত নিরাময়ের জটিল প্রক্রিয়া
ক্ষত শুকানো কোনো সরল প্রক্রিয়া নয়। এটি মূলত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ওপর নির্ভর করে। এই তিনটির যেকোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষত সারতে বেশি সময় লাগে। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
শরীরে চিনির প্রভাব কীভাবে কাজ করে
অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার গ্রহণ করলে শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এই প্রদাহ টিস্যু পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, ফলে ক্ষত ধীরে শুকায়।
বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ থাকে—যেমন ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস রোগী—তাদের ক্ষেত্রে রক্তনালীগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতস্থানে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয়।
ফলে শুধু নিরাময় ধীরই হয় না, বরং সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর প্রভাব
রক্তে শর্করা বেশি থাকলে শরীরের শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। এই কোষগুলো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তাই এগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে ক্ষত সারতে সময় বেশি লাগে এবং জটিলতা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গি
২০২৫ সালে Burns & Trauma জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ক্ষত নিরাময়ের প্রতিটি ধাপে গ্লুকোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শরীরের কোষকে শক্তি জোগায় এবং টিস্যু পুনর্গঠনে সাহায্য করে।
তবে গ্লুকোজ বিপাক ব্যাহত হলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়, যা নিরাময় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
সব চিনি কি ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক চিনি এবং প্রক্রিয়াজাত চিনি এক নয়। ফল, শাকসবজি ও দুধজাত খাবারে থাকা প্রাকৃতিক চিনি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে।
অন্যদিকে ক্যান্ডি, সফট ড্রিংকস ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের চিনি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ক্ষত দ্রুত সারাতে কী খাবেন?
ক্ষত নিরাময় দ্রুত করতে হলে নিয়মিত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, গোটা শস্য, শাকসবজি ও ফল খাওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখলে শরীরের প্রাকৃতিক নিরাময় ক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।