খাবার খাওয়ার ঠিক পরেই বা খাওয়ার সময় শরীরে ঘাম দেখা দিলে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন—এটি কি কোনো রোগের লক্ষণ? বিশেষ করে ডায়াবেটিসের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পর ঘাম হওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে “গাস্টেটরি সোয়েটিং” বলা হয়। এটি সব সময় রোগের লক্ষণ নয়। অনেক সুস্থ মানুষও ঝাল, গরম বা বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ার পর সাময়িকভাবে ঘামতে পারেন। সাধারণত এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ধরা হয়।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এই উপসর্গটি ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। “জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল এন্ডোক্রিনোলজি”-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ১১ শতাংশ রোগী খাবার গ্রহণের সময় বা পরে অতিরিক্ত ঘামের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি স্নায়ুজনিত জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিসের কারণে শরীরের অটোনমিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে মুখ, মাথা, ঘাড় বা শরীরের ওপরের অংশে অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিতে পারে। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) শরীর ঘামের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, যা ইনসুলিন বা নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
তবে ডায়াবেটিস ছাড়াও খাবারের পর ঘামের আরও বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক উদ্বেগ, সংক্রমণজনিত অসুস্থতা, খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং শরীরের অতিরিক্ত চর্বি বা মেটাবলিক পরিবর্তন।
চিকিৎসকদের মতে, ঝাল বা গরম খাবার খাওয়ার পর সাময়িক ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি প্রায় প্রতিটি খাবারের পরই অতিরিক্ত ঘাম হয়, অথবা এর সঙ্গে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা রক্তে শর্করার ওঠানামা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
বিশেষ করে ঘন ঘন ঘাম হওয়ার সঙ্গে যদি রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটি কখনও কখনও হাইপারথাইরয়েডিজম বা ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, সঠিক জীবনযাপন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।