সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে শিক্ষক বদলির আবেদন ও অনুমোদনের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, আগে কেন্দ্রীয়ভাবে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ ছিল। সেই সমস্যা দূর করতে নতুনভাবে বিকেন্দ্রীকৃত পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
তিনি রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত একটি কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষকরা তাদের বদলির আবেদন এসব কমিটির কাছে জমা দেবেন এবং কমিটিগুলো প্রতি মাসে একবার বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারা থাকবেন। একইভাবে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি কাজ করবে। এসব কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে বদলি অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, অতীতে বদলি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছিল, যা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করেছিল। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই অনিয়ম বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “এখন থেকে প্রতিটি আবেদন স্থানীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং শিক্ষকরা সহজে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলির সুযোগ পাবেন।”
কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ইউনিসেফ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হয়।
এর আগে বদলি প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হতো। শিক্ষকরা অনলাইনে আবেদন করতেন এবং ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও অধিদপ্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে বদলি চূড়ান্ত হতো।
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।