র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ আবারও পিছিয়ে গেছে। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি।
আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ জুন নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন রহমান শুনানিতে সময়ের আবেদন জানান। তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, মামলায় গুরুত্বপূর্ণ একজন আইনজীবীর মৃত্যু হওয়ায় নতুন আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থতার কারণে আরেক আইনজীবীও প্রস্তুত নন বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্ধারিত দিনে সাক্ষী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার জবানবন্দি গ্রহণের পর প্রয়োজন হলে জেরা চলমান রাখা যেত। তাই এক-দুদিন সময় নিলে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো বলে তারা মত দেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ২২ জুন নির্ধারণ করেন। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঁচ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ সম্ভব হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের ৩ জুনও এই সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত হয়েছিল। ফলে মামলাটির সাক্ষ্যপর্ব ইতোমধ্যে একাধিকবার পিছিয়েছে।
এ পর্যন্ত এই মামলায় ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ মোট চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে মামলার ১৭ আসামির মধ্যে ১০ জন গ্রেপ্তার অবস্থায় ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত সাব-জেলে রয়েছেন। অন্যদিকে সাতজন পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা রয়েছেন।
টিএফআই সেল সংশ্লিষ্ট এই মামলাটি দেশের আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাক্ষ্যগ্রহণ বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।