দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয়ে দেখা যাচ্ছে না অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতিকে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ তারকাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবেও পরিচিত এ অভিনেত্রী। এছাড়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বহুল আলোচিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেরও অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।
এদিকে হঠাৎ করেই ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন এ অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে কাজের সংকট, মানসিক চাপ ও অনলাইন হয়রানির কারণে তিনি ভীষণ বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।
জ্যোতিকা বলেন, নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কাউকে পাচ্ছেন না তিনি। দীর্ঘদিন নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেও এখন আর তা পারছেন না। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি আর পারছি না।”
অভিনেত্রীর দাবি, গত দুই বছর ধরে তেমন কোনো কাজ পাচ্ছেন না তিনি। এর পাশাপাশি নিয়মিত অনলাইন হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
জ্যোতিকা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর থেকে তাকে ঘিরে নানা ধরনের অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়েছে। তার রাজনৈতিক অবস্থান ও মতাদর্শের কারণে বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সময় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি। বিভিন্ন মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রভাব তার পেশাগত জীবনেও পড়েছে বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
জ্যোতিকার ভাষ্য, তাকে নিয়ে কাজ করতে অনেকেই এখন দ্বিধায় থাকেন। ফলে তার ক্যারিয়ার স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না, আবার আপস করেও কাজ করতে পারি না।”
লাইভের শেষ দিকে আবেগাপ্লুত হয়ে জ্যোতিকা বলেন, তিনি অসহায় বোধ করছেন এবং এভাবে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে হবে, তা কখনো ভাবেননি।
উল্লেখ্য, জ্যোতিকা জ্যোতি দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বে থাকাকালীনও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে সময় তাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
সান নিউজ/ হুমায়রা