ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বড় একটি নৌবহর নিয়ে এগিয়ে আসছে ইরান অভিমুখে। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সেনা উপস্থিতিও। তবে ইরানও সামর্থ্যসম্ভব প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির এক কর্মকর্তা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন– তাদের আঙুল ‘বন্দুকের ট্রিগারে’। এ অবস্থায় ইরানের ‘ছায়া নৌবহর’ হিসেবে পরিচিত ৯টি নৌযান ও আরও আটটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বিক্ষোভকারীদের হত্যার জেরে ইরানের জাহাজ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব জাহাজ মালিক বা ব্যবস্থাপকরা ভারত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। ‘ছায়া নৌবহর’ বলতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল বহনকারী জাহাজগুলোকে বোঝায়।
নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি ডেস্ট্রয়ার দক্ষিণ চীন সাগর ছেড়ে পশ্চিম দিকে যাত্রা শুরু করেছে। সামরিক গতিবিধি নিয়ে আলোচনা করায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ কর্মকর্তা বলেন, রণতরীসহ নৌবহর ভারত মহাসাগরে রয়েছে। যখন ইরানের কাছে পৌঁছাবে, তখন এ যুদ্ধজাহাজগুলো বাহরাইনের বন্দরে থাকা তিনটি উপকূলীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে। সেই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে সমুদ্রে থাকা আরও দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের সঙ্গেও যোগ দেবে।
ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের আগমনের ফলে প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত সার্ভিস সদস্য আসবে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যেখানে হাজার হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল এখন মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিত রয়েছে। রিক অনলাইন জানায়, এ যুদ্ধবিমান ‘যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়াবে।’ যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা কাতারে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডেটার বিশ্লেষকরা লক্ষ্য করেছেন, কয়েক ডজন মার্কিন সামরিক কার্গো বিমানও ওই অঞ্চলে যাচ্ছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানায়, ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর বাহিনী ‘আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত; তাদের আঙুল ট্রিগারে।’ ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম নুরনিউজ জানিয়েছে, কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘কোনো ভুল গণনা এড়াতে’ সতর্ক করেন। পাকপুর বলেন, ‘ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ও প্রিয় ইরান আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত। কমান্ডার-ইন-চিফের আদেশ ও নির্দেশাবলি বাস্তবায়নের জন্য তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।’
সান নিউজ/আরএ