সারাদেশ

পানির নিচে সাতক্ষীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা : প্রবল বর্ষণে সাতক্ষীরার বেশকিছু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে । টানা তিন দিনের এ বর্ষণে সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। ভেসে গেছে জমির ফসল, আমন বীজতলা, মাছের ঘের ও পুকুর।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা, বল্লী, ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের অধিকাংশ বিলগুলোতে সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া নিম্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে।

সাতক্ষীরা পৌর বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কামালনগর, ইটাগাছা, খড়িবিলা, বদ্যিপুর কলোনী, শহরতলীর বকচরা, কাশেমপুর, সরকারপাড়া, আমতলার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা। পানি অপসারণের কোনো পথ না থাকায় বৃষ্টির পানি বাড়িঘরে উঠতে শুরু করেছে। সাতক্ষীরা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রানসায়ের খাল দিয়ে পানি অপসারিত হচ্ছে না।

এদিকে গদাইবিল, ছাগলার বিল, শ্যাল্যের বিল, বিনেরপোতার বিল, রাজনগরের বিল, মাছখোলারসহ কমপক্ষে ১০টি বিলে পানি থই থই করছে। এসব বিলের মাছের ঘের ভেসে গেছে। বেতনা নদীর তীরবর্তী এই বিলগুলোর পানি নদীতে নিষ্কাশিত হতে পারছে না।

অতিবৃষ্টিতে গ্রামাঞ্চলের সব পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাঁচা ঘরবাড়ি রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। দিনভর টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। এছাড়া তালার ইসলামকাটি, কুমিরা, পাটকেলঘাটা, মাগুরা, আশাশুনির প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদর, দরগাহপুর, কাদাকাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থৈ থৈ করছে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালি, রমজাননগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। কালীগঞ্জ উপজেলার মৌতলা, মথুরেশপুর, ভাড়াশিমলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ডুবে গেছে বলে খবর দিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে সাতক্ষীরায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন এভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ভারী বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সদ্য রোপা আমন, আউশ বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের জরিপ করে ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপন করে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি ভারী বর্ষণ থেমে যায়, তাহলে রোপা আমন ও বীজতলার তেমন ক্ষতি হবে না। তারপরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ জানান, হঠাৎ ভারী বর্ষণের ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতির খবর আসেনি।

সাননিউজ/এমএইচ

Copyright © Sunnews24x7
সবচেয়ে
পঠিত
সাম্প্রতিক

বাড়লো ফার্নেস অয়েলের দাম ঘোষণা, রাত ১২টা থেকেই কার্যকর

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্...

গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গ্রাহকদের বেশি সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অ...

সরকারের গণভোটের কথায় নতুন সংকট সৃষ্টি হবে: গোলাম পরওয়ার

সংবিধান সংশোধনে পুনরায় গণভোটের কথা বলে বর্তমান সরক...

কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাংখিত ঘটনাকে পূঁজি করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টির পায়তারা করছে

কিছু রাজনৈতিক দল কিছু অনাকাংখিত ঘটনাকে পূঁজি করে দেশে অরাজগতা সৃষ্টির পায়তারা...

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এলো ২৭৪ কোটি ডলার

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে ইতিবা...

ফেনীতে নানা বাড়ির অতীত স্মৃতি স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নানা বাড়ির জেলায় এসে অতীত স্মৃতি স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃ...

লাইফস্টাইল
বিনোদন
sunnews24x7 advertisement
খেলা