কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে আটক করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে থানায় নিয়ে যান। হাবিবুরের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তার বাড়িও সেখানে। উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মাঝে হাবিবুর রহমান হেলালী টাকা বিতরণ করছেন– গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে লোকজন তাকে আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তার গাড়ি তল্লাশি করে ১ হাজার টাকার দুটি বান্ডিলে ২ লাখ টাকা পাওয়া যায়। এরপর তাকে আটক করে দুপুরে মুরাদনগর থানায় নেওয়া হয়।
আটকের পর অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তার কাছে এত টাকা ছিল না। নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্ব পাওয়ায় জামায়াতের এজেন্টদের খাবার খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা ছিল। তার গাড়িতে জোর করে অতিরিক্ত টাকা রেখে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা জামায়াতের আমির আ ন ম ইলিয়াস বলেন, হাবিবুরকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সকালে তিনি আমাদের নির্বাচনী এজেন্টদের কাছে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনের নামে মূলত বিএনপির লোকজন ‘মব’ সৃষ্টি করে তাকে আটক করে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি বাজারের ব্যাগে দুই লাখ টাকা ভরে ব্যাগটি হাবিবুরের গাড়ির পেছনের মালপত্র রাখার জায়গায় রেখে দেয়। বিষয়টি পুরোপুরি তাদের ষড়যন্ত্র।
তবে জামায়াতের অভিযোগ অস্বীকার করে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, জামায়াত কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের প্রতিটি এলাকায় এভাবে টাকা বিতরণ করে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করে উল্টো মিথ্যাচার করছে। এলাকায় টাকা বিতরণের সময় জামায়াত নেতা হাবিবুরকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এখানে বিএনপির কোনো ষড়যন্ত্র নেই।
সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান সমকালকে বলেন, টাকা বিতরণের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আমরা বিধি মোতাবেক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানিয়েছি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এলে রাতের মধ্যে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ আসনে ভোটে লড়ছেন ৯ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ইউসুফ সোহেল।
সান নিউজ/আরএ