কেশবপুরঃ যশোর জেলার কেশবপুর খানপাড়া জামে মসজিদের সাড়ে ৩৯ বিঘা এবং সরকারি প্রায় ১১ বিঘা সম্পত্তি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধারসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন করেছেন খানপাড়া জামে মসজিদের পক্ষে কমিটির সভাপতি হাজী মোজ্জাম্মেল হোসেন খান।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১ টার দিকে প্রেসক্লাব কেশবপুরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খানপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি হাজী মোজ্জাম্মেল হোসেন খান জানান, মধ্যকুল খানপাড়া জামে মসজিদটি এলাকার প্রয়াত বুদ্ধ খান, তার নিজস্ব জমিতে নির্মাণ করেন। তিনি প্রায় ১২ বছর ধরে ওই মসজিদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯০৩ সালে এই মসজিদের নামে একই এলাকার হাজী জমসের খান ৩৯.৫ বিঘা জমি আল্লাহর নামে ওয়াকফ করে যান। ওই সকল সম্পত্তি কেশবপুর পৌর শহরের ০৭ নং ওয়ার্ডের মধ্যকুল খানপাড়া এলাকার মৃত রজবালী খানের ছেলে আসলাম খান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাম খানগংরা কথিত মোতয়াল্লীরা জোর পূর্বক ভোগ দখল করে আসছেন। এর পাশাপশি তারা মসজিদে দানের ও কৌটার মুসল্লিদের দানের লক্ষ লক্ষ টাকাও তারা আত্নসাৎ করে খেয়েছেন। এসব টাকার হিসাব চাইলে তারা মসজিদ কমিটিসহ মুসল্লিদের সাথে দু'ব্যবহার করেন বলে তিনি জানান। এসব অর্থের কোন হিসাব আজ পর্যন্ত তারা দেয়নি। এছাড়া ওই মসজিদের নামে
শতকোটি টাকার সম্পত্তি থাকা সত্বেও এই জমির আয় থেকে কোন অর্থ মসজিদ উন্নয়নসহ তার পচিালনায় তারা না দিয়ে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে খাচ্ছে। সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর প্রায় ৩০টি পাকা আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে প্রতিমাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে নিজেরা পকেটে তুলছেন। এসব দোকান থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছেন তারা। এরই মধ্যে হাজী জমসের খান ওয়াকফ সম্পত্তির সাড়ে ৩৯ বিঘার জমির মধ্যে কথিত মোতয়াল্লীদ্বয় প্রায় ৩০ বিঘা জমি বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট বিক্রয় করে দিয়ে, আবার তারা ওই জমি উদ্ধারের জন্য ওইসকল ক্রেতাদের নামে মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানী করে আসছে। এর পাশাপাশি আসলাম খান ও সালাম খান মসজিদের জমির পাশাপশি সরকারি জেলা পরিষদ এবং সিএন্ডবির ১১ বিঘা মুল্যবান সম্পত্তির ওপর দোকান ঘর ও মৎস্য ঘের নির্মাণ করে তারা একই ভাবে দখলে রেখে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারসহ ভুমিদস্য আসলাম ও সালাম খানের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে যশোর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া আসলাম খান সম্প্রতি কেশবপুর বাজারের প্রায় ৩০ জন ব্যবসায়ীর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এসব ব্যবসায়ীরা শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মধ্যকুল খানপাড়া জামে মসজিদে এসে বিষয়টি স্থানীয় মুসল্লিদের জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে নানা অপ প্রচারসহ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি সরকারি ও ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারসহ ওই ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, খানপাড়া জামে মসজিদের যুগ্মসম্পাদক ফিরোজ খান, ক্যাশিয়ার হাফিজুর রহমান খান বাবু, সহক্যাশিয়ার আসিফ রায়হান, প্রচার সম্পাদক মোঃ স্বপন বিশ্বাস সদস্য ইকবাল খান বাসার খান ও জাকির খানসহ সকল সদস্যরা।
সান নিউজ/আরএ